করোনার উপসর্গ জ্বর, কাশি, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দুই সহোদর ও এক প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন এবং সীতাকু- থানার এক এসআই মারা গেছেন। এছাড়া গাইবান্ধায় এক মুক্তিযোদ্ধাসহ দুজন ও মাগুরায় একজন মারা গেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
হাটহাজারী : উপজেলায় গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার দুই সহোদরসহ চারজন মারা গেছেন। তারা হলেন হাটহাজারী পৌরসভার কালাচাঁদ দীঘির পাড়ের প্রয়াত গোলাম রসুলের দুই ছেলে মো. শাহ আলম (৩৩) ও মো. শাহজাহান (৩০), মনছুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন বড়ুয়া (৩৫) এবং ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নাজিম উদ্দিন (৪৫)। উপজেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৫ জন, তাদের ৯ জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ২১ জন। হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ইতিয়াজ হোসাইন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, উপজেলায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চিকিৎসা দিতে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও সুইপার আক্রান্ত হয়েছেন।
সীতাকুন্ড : করোনা হানা দিয়েছে সীতাকুন্ড মডেল থানায়। ওসি (ইন্টেলিজেন্স) সুমন বণিক ও একজন সদস্যের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহা এবং কয়েকজন এসআই ও পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন একরামুল ইসলাম (৪৫) নামের এক এসআই।
থানা সূত্র জানায়, ২ জুন থেকে এসআই একরাম জ্বর ও সর্দিতে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করছিলেন। ৪ দিনেও জ্বর না কমায় গতকাল তাকে করোনা পরীক্ষা করতে বলেছিলেন ওসি। একই ফ্ল্যাটের অন্য কক্ষে থাকা দুজন সকাল ১০টার দিকে তাকে ঘুম থেকে ডাকতে যান। এ সময় অচেতন অবস্থায় তার মুখে ফেনা দেখতে পান। তাকে উদ্ধার করে সীতাকুন্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা : নিজ বাড়িতে দুজন মারা গেছেন। তারা হলেন গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার আরজী খলশী গ্রামের আবদুর রহমান (৫২) ও পলাশবাড়ী পৌরসভার প্রফেসরপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা মো. ময়েজ উদ্দিন (৬৫)। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসান জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বরের চায়ের দোকানি রহমান দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। ঈদের পর সমস্যা বেড়ে গেলে গত শুক্রবার শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তার টাইফয়েড হয়েছে জানিয়ে চিকিৎসাপত্র দেন। বাড়ি ফিরে রহমান আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন; রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান। ওসি আরও জানান, রহমান মারা যাওয়ার পর করোনা ছড়ানোর ভয়ে পরিবারের লোকজন কাছে যাননি। গতকাল স্বাস্থ্যবিধি মেনে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাজেদুল ইসলাম বলেন, রহমানের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও সংস্পর্শে আসা সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। পলাশবাড়ী থানার ওসি মাসুদার রহমান মাসুদ জানান, পৌরসভার প্রফেসরপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন গতকাল মারা গেছেন। সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর হোমিও চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছিলেন। তিনি হোমিও চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, তার নমুনা রংপুর পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও সংস্পর্শে আসা সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।
মাগুরা : শহরের পারনান্দুয়ালী পূর্ব মুন্সিপাড়া গ্রামের জাহিদুল মুন্সি (৮৫) গতকাল দুপুরে মারা গেছেন। সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রদীপ কুমার সাহা জানান, সকালে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা পাঠানো হয়েছে।
