গাংনীর কাবিখার চাল পাচার

এমপির সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে শাস্তি দাবি আ.লীগ নেতাদের

আপডেট : ১১ জুন ২০২০, ০৩:৩১ এএম

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহেদুজ্জামানের অনুকূলে কাবিখার বিশেষ বরাদ্দের ১২৬৬ বস্তা চাল পাচারের ঘটনায় সাংসদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখে বিচার ও শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। গতকাল বুধবার গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক গাংনীতে তার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে চাল পাচারের ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল আরও চারজনের জবানবন্দি নিয়েছে। এই কমিটির আজ বৃহস্পতিবার মেহেরপুরের গাংনীতে গিয়ে সেখানকার ১৩ জনের জবানবন্দি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও ফাইলপত্র খতিয়ে দেখার কথা।

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাবিখার ১৬০ মে.টন চাল রেখে দিয়ে ১৩টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫২.৫৫ মে.টন চাল বরাদ্দ করা হয়। সাংসদ সেই চাল অবৈধ পন্থায় খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করেন। দুঃখজনক যে সাংসদ কর্র্তৃক পাচার হওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেøাগান ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ লেখা সংবলিত সরকারি বস্তাভর্তি ১২৬৬ বস্তা সেই চাল চুয়াডাঙ্গার দুটি গোডাউন থেকে উদ্ধার হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল বস্তা বদলের মাধ্যমে ওই চাল চড়া দামে বাজারে বিক্রি করার। ধরা পড়ার পর চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। গোডাউন সিলগালা হয়েছে। জানা যাচ্ছে যে ধরা পড়া এই চাল গাংনী আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকনের অনুকূলে বরাদ্দের চাল। বিভিন্নজনকে প্রকল্প চেয়ারম্যান করে উত্তোলন ও বিক্রি করে তা চুয়াডাঙ্গায় গুদামভর্তি করা হয়। এমন খবরে আমরা মর্মাহত ও ব্যথিত।

জেলা আ. লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে মনে করি সাংসদ কর্র্তৃক এই ঘটনা পুরো জেলাবাসীকে এবং সরকারের ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে নষ্ট করেছে। সেই সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে নষ্ট করেছে। আমি এর নিন্দা ও ঘৃণা জানানোর পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।’

চাল পাচারের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রক্রিয়া ও জবানবন্দি গ্রহণের ধরনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে খালেক বলেন, ‘এখন রিহার্সালের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প সভাপতিদের পূর্বের বক্তব্য উল্টো বলতে বাধ্য করানো হচ্ছে। আমি দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধি, অথচ এমপি সাহেবের এমন প্রকল্পের খবর দলের কোনো নেতা জানেন না এবং প্রকল্পের সভাপতিরাও জানেন না। এখন জানাজানি হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে অনেক প্রকল্পের কাজে রাতারাতি বালি-সুরকি ফেলা শুরু হয়েছে। কেন এই লুকোচুরি। এই সাংসদ তার স্ত্রী এবং পছন্দের একজনকে দিয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিতালুন্নেছা প্রতিবন্ধী স্কুলের নামে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দিহান। কেননা এই দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও খাদ্যগুদাম কর্র্তৃপক্ষের ইন্ধন ছাড়া সাংসদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তদন্ত আরও কঠোর ও গভীর হতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, গাংনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আহমেদ আলী, গাংনী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন, গাংনী উপজেলা যুব মহিলা লীগের শাহানা ইসলাম সান্তনা, গাংনী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমীন, জেলা পরিষদের সদস্য মজিরুল ইসলাম এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পরিষদের সদস্য মজিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কাবিখার চাল ৬০ভাগ বিক্রি করে প্রকল্প কাজে ব্যয় করার বিধান রয়েছে। কিন্তু শতভাগ চাল বিক্রি করে খেয়ে ফেলার কোনো বিধান নেই।’

গাংনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আহমেদ আলী বলেন, ‘গাংনীতে কোথাও কাবিখার কাজ নেই, অথচ কাবিখার চাল চলে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। এই সাংসদ সার্টিফিকেট বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আজ একাধিক বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে গেছেন। এমন সাংসদ চাল চুরি করতে পারেন এটা গাংনীবাসী বিশ্বাস করেন। দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত