করোনা রোগীদের চিকিৎসা সংকটে এগিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি সেবা সংস্থাটি নগরীর আগ্রাবাদের সিটি কনভেনশন হলকে ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করেছে। আজ শনিবার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঐকান্তিক ইচ্ছায় নির্মিত আইসোলেশন সেন্টারটিকে জেলার অপ্রতুল করোনা চিকিৎসার মধ্যে আলো হিসেবে দেখছে নগরবাসী।
এ বিষয়ে মেয়র নাছির দেশ রূপান্তরকে জানান, চট্টগ্রামে প্রতিদিনই করোনা রোগী বাড়ছে। বিপরীতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। চসিকের উদ্যোগে নির্মিত আইসোলেশন সেন্টারে কর্মরত চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। শনিবার তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এটির উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সামশুদ্দোহা জানান, আইসোলেশন সেন্টার চালুর বিষয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তিন শিফটে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এখানে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের থাকার জন্য পাশেই হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগামী তিন মাসের জন্য সেন্টারটিতে ২৫০টি শয্যা, ৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ৫০টি অক্সিজেন মাস্ক, ৫০টি অক্সিজেন মিটার, ৫০টি ফিঙ্গার পালস অক্সিমিটার, ৬টি ডিজিটাল থার্মোমিটার, ১২টি স্যাভলন (প্রতিটি ৫ লিটার), ৫০০টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ২৫০টি মশারিসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।
আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ডা. সুশান্ত বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে করোনা আক্রান্তদের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন প্রয়োজন হলে এখানে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হবে।’
গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৫৯৩ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছে ১০৬ জন। এতসংখ্যক রোগীর বিপরীতে জেলায় বর্তমানে ৪৮০টি আইসোলেশন শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ১০০, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৫০ ও বিআইটিআইডিতে ৩০টি এবং বেসরকারি চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে ৫০, হলি ক্রিসেন্টে ১০০ ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে ৫০টি শয্যা রয়েছে।
