চামড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে : শিল্পমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ০৭:১২ এএম

আসন্ন ঈদুল আজহায় চামড়া ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের লাভের কথা বিবেচনা করে কাঁচা ও লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এতে ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত চামড়া ক্রয় ও সংরক্ষণের সক্ষমতা অর্জন করবেন।

গতকাল সোমবার চামড়া শিল্প উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বন ও পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব কেএম আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহেদ আলী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রমেশ বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, আসন্ন ঈদুল আজহায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদের ইমাম, মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী, চামড়া ছড়ানোয় জড়িতদের চামড়া ছড়ানো ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় তথ্য মন্ত্রণালয় ও লেদার বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের মাধ্যমে ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে থেকে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ট্যানারি শিল্পের জন্য বাজেট সহায়তা নিশ্চিতে অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, হাজারীবাগে ট্যানারি মালিকদের জমি হতে রাজউকের ‘রেড জোন’ প্রত্যাহার হলে মালিকদের ঋণ পেতে সুবিধা হবে। ট্যানারি মালিকদের জন্য ঋণ সহায়তা নিশ্চিত সম্ভব না হলে আসন্ন ঈদে চামড়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে আশঙ্কা করেন তিনি। শিল্প প্রতিমন্ত্রী চামড়া সংরক্ষণে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো বহুদিন ধরে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িত। এ থেকে অর্জিত আয় দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। কোরবানি উপলক্ষে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দিলে তারা চামড়া ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, সাভারের ট্যানারিগুলোয় বর্তমানে ৪০০-৫০০ কোটি টাকার চামড়া জমা আছে। ট্যানারি মালিকদের জন্য ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ঋণ সহায়তার নিশ্চিত ছাড়া অধিকাংশ ট্যানারি মালিকদের পক্ষে চামড়া কেনা সম্ভব হবে নয়। তিনি বিষয়টি সুরাহার জন্য টাস্কফোর্স সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত