কোটি পরে আলোচনায় বিএনপি এমপি

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অপসারণ দাবি হারুনের

আপডেট : ২৪ জুন ২০২০, ০৫:৪২ এএম

করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘ব্যর্থ’ অভিযোগ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের অপসারণ দাবি করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) হারুনুর রশীদ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। হারুন বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিকলাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটা পরিবর্তন করা দরকার।’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেন। সরিয়ে দিয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপযুক্ত ব্যক্তিদের বসান। কমিটেড লোকদের বসান।’

এদিকে বিএনপির এমপি হারুন গতকাল মুজিব কোট পরে সংসদ অধিবেশনে গিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেছেন, সেটা মুজিব কোট ছিল না, সেটা ছিল ব্লু রঙের কোটি।

হারুন গতকাল মুজিব কোট পরে সংসদে যোগ দিয়েছেন এমন সংবাদ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ফেইসবুকে তার কঠোর সমালোচনা করে পোস্ট দেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কিছু জানি না।’ এ বিষয়ে হারুন দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, ‘আমি কেন মুজিব কোট পরব? মুজিব কোট তো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরে। আমি ব্লু রঙের কোটি পরেছি পাঞ্জাবির ওপর। আসলে আমাকে হেয় করতে এমন অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাই।’ বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বাজারে হাজার হাজার কোটি আছে, লাল, নীল, সবুজ, হলুদ। যে-যেরকম পছন্দ হয় পরে। মুজিব কোট আমরা সাধারণত জানি ব্ল্যাক (কালো)। আর মুজিব কোটের বাটন (বোতাম) থাকে ছয়টা সম্ভবত। আমি মুজিব কোট পরতে যাব কেন?’ অবশ্য হারুন যে কোটি পরে যান তাতেও ছয়টা বোতাম দেখা গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এই এমপি বলেন, ‘কালারটা ব্লু। সাদা পাঞ্জাবির ওপর পরার জন্য এটা আমার কেনা। এটা একটা পাঞ্জাবি সেট। আমার বাড়িতে তো আরও বিভিন্ন রকমের কোটি আছে। অনেকেই তো পরে। ম্যাচ করে কোটি পরা তো এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দেখলাম এটা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছে। এটা কি আলোচনার কোনো বিষয়বস্তু? করোনার সময় আমি পার্লামেন্টে কী বললাম, সেগুলো আলোচনা বাদ দিয়ে আমি কী পরে গেলাম, সেটা কোনো বিষয় হলো?’

গতকাল সংসদ অধিবেশনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় সভাপতির দায়িত্বপালনকারী ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার বিরুদ্ধে ‘বক্তব্যে হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে ‘ওয়াক আউট’ করেন বিএনপির এমপি হারুন। বাজেটের ওপর আলোচনার জন্য তাকে ১২ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হারুন করোনা পরিস্থিতিতে দেশের ‘উন্নয়নের কথা চিন্তা না করে’ মানুষ বাঁচানোর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ দলটির ‘হাজার হাজার’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলার’ অভিযোগ তুলে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। সংসদে তারেক জিয়ার প্রসঙ্গ ওঠায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রায় সবাই তার প্রতিবাদ করেন। এ সময় হইচই শুরু হয়। এরই মধ্যে হারুনের ১২ মিনিট শেষ হলেও তিনি না বসে বক্তব্য অব্যাহত রাখেন এবং সময় বাড়াতে ডেপুটি স্পিকারের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু ফজলে রাব্বি মিয়া সময় না বাড়ালে প্রতিবাদে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করতে উদ্যত হন হারুন। ডেপুটি স্পিকার তখন তাকে বসতে এবং তার কথা শুনতে অনুরোধ করেন। এ পর্যায়ে হারুন চেয়ারে বসলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনি জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন এটি সুন্দর প্রস্তাব। কিন্তু আপনি এমন দুজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন যাদের কথা আমি সংসদের এ চেয়ারে বসে উচ্চারণ করতে চাই না। একটি নির্বাচিত সরকার কোনো কনভিক্টেড ব্যক্তির সঙ্গে ঐক্য করতে পারে না।’ বিএনপির এই এমপি ‘কিছু অসংসদীয় কথা’ তার বক্তব্যে বলেছেন উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে সংসদ নেতা শেখ হাসিনার পরামর্শে তিনি বাজেটের ওপর আরও এক মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন হারুনকে। এ সময় হারুন ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্পিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আপনি সময় বাড়িয়ে দেননি। মাননীয় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলার পর আপনি এক মিনিট সময় বাড়িয়েছেন। আমি আর বক্তব্য দেব না। আপনি আমার বক্তব্যে ইন্টারাপ্ট করেছেন। এর প্রতিবাদে আমি সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’ এই বলে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন হারুন। তার ওয়াকআউটের পর কেউ কেউ ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, ‘উনার (হারুনের) প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য আমি একাই যথেষ্ট। সংসদে কোনো সদস্য অসংসদীয় বক্তব্য দিলে আমি অবশ্যই ইন্টারাপ্ট করব। এটা সরকারি দলের কেউ দিলেও করব, বিরোধী দলের কেউ দিলেও করব।’

বিএনপির এমপি হারুন অধিবেশনে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলে বক্তব্য শুরু করেন। এ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার প্রশ্ন তুলে বলেন, হঠাৎ করে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়লেন কেন? এটা দিয়ে কোনো বক্তব্যের শুরুর রেওয়াজ আমি আমার সাত মেয়াদে কোনো এমপির মধ্যে দেখিনি। এর উত্তরে হারুন বলেন, আমি এর ব্যাখ্যা পরে দেব। তিনি বলেন, করোনা-উত্তর ভবিষ্যৎ অর্থনীতি পথক্রমের জন্য যে ধরনের বাজেট প্রণয়ন দরকার ছিল সেটি সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত