শেষ সপ্তাহে পরীক্ষা কমেছে শনাক্ত বেড়েছে

আপডেট : ২৫ জুন ২০২০, ০৫:৫৩ এএম

দেশে করোনা বাড়ছেই। ১৭ জুন এক দিনে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৭ হাজার পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৪ সহস্রাধিক রোগী শনাক্তের পর থেকে দৈনিক পরীক্ষার সংখ্যা কমে গেছে। কম পরীক্ষায়ও এ কদিন সাড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার দেশে করোনা শনাক্তের ১০৯তম দিনে ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৩৭ জন। এদিন নতুন আরেকটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে ল্যাব বাড়লেও বাড়ছে না পরীক্ষার সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে ৫টি ল্যাব বাড়লেও পরীক্ষা আগের সপ্তাহ থেকে কম হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নমুনা পরীক্ষাও ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হয়। পরীক্ষা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত বাড়তে থাকায় দেশে বাস্তবিক অর্থে কী পরিমাণ করোনা রোগী আছে তা জানতে বিশেষজ্ঞরাও পরীক্ষা আরও অনেক বেশি বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তবে গত এক সপ্তাহে পরীক্ষা বাড়ার পরিবর্তে কমেছে। শেষ সপ্তাহে (১৮ থেকে ২৪ জুন) দেশে পরীক্ষা হয়েছে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ২০০টি। আগের সপ্তাহে (১১ থেকে ১৭ জুন) হয়েছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৬৮৪টি। শেষ সপ্তাহে কয়েক শ পরীক্ষা কম হয়েছে। যদিও শেষ সপ্তাহে দেশে নমুনা পরীক্ষার ল্যাব বেড়েছে ৫টি। ১৭ জুন পর্যন্ত ৬১ ল্যাবে পরীক্ষা হলেও গতকাল পর্যন্ত ৬৬টি ল্যাবে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ল্যাব বাড়লেও পরীক্ষা কম হওয়ার একটি কারণ হলো কয়েকটি ল্যাবে পরীক্ষা বন্ধ থাকা। এক সপ্তাহ ধরেই দেখা গেছে প্রতিদিনই ৬-৭টি করে ল্যাবে পরীক্ষা বন্ধ থাকছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকালও ৬টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল। এদিকে পরীক্ষা কম হলেও শেষ সপ্তাহে ৫ শতাধিক রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহে ২৩ হাজার ৬২৪ জনের বিপরীতে গত সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছে ২৪ হাজার ১৭১ জন। অর্থাৎ শেষ সপ্তাহে রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে। এটা দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির লক্ষণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে পরীক্ষার সংখ্যা দ্বিগুণ করা হলে রোগী শনাক্তও দ্বিগুণ হতে পারে।

গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৭ হাজার ২৪৫টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ৪৩৩টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ৪৬২ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন রোগী শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ০৭ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩৭ জন এবং হাসপাতাল ও বাড়ি মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৩১ জন।

তিনি জানান, এদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নতুন করে নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে। এ নিয়ে দেশে মোট ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪টি। এসব পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৫৮২ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯ হাজার ৬৬৬ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের বিষয়ে বলা হয়, তাদের মধ্যে পুরুষ ২৮ জন ও নারী ৯ জন। মৃতদের ১০ জন ঢাকা ও ৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের। এ ছাড়া খুলনায় ৭, রাজশাহীতে ৬, ময়মনসিংহে ৩ এবং বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ১ জন করে মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৪ জন এবং বাড়িতে ৩ জন। তাদের মধ্যে ১১-২০ বছরের ১ জন, ২১-৩০ বছরের ২ জন, ৩১-৪০ বছরের ২ জন, ৪১-৫০ বছরের ৩ জন, ৫১-৬০ বছরের ১২ জন, ৬১-৭০ বছরের ৯ জন এবং ৭১-৮০ বছরের ৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া দুই সহস্রাধিক রোগীর মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছেন ১ হাজার ২২৩ জন। এরপর চট্টগ্রামে সুস্থ হয়েছেন ৪২৫ জন, ময়মনসিংহে ১০১ জন, রাজশাহীতে ৯২ জন, খুলনা ও বরিশালে ৭১ জন করে, সিলেটে ২৫ জন ও রংপুর বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ২৩ জন।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৭৪৯ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৩ হাজার ১৫৮ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ৬৩১ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৩ হাজার ৯৬০ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৫টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ১৩৪ জন, তাদের প্রত্যেককেই স্ক্রিনিং করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ২৩ লাখ ৬২ হাজার ৮১৪টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত