ভারতে ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় কিশোরীকে পুড়িয়ে হত্যা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০৬:৪২ এএম

ভারতের ছত্তিশগড়ে ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় এক কিশোরীকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে দুই যৌন নিপীড়ক। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, গত ২২ জুন ওই কিশোরী ধর্ষকদের বাধা দিলে তারা তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তাকে নেওয়া হয় স্থানীয় একটি হাসপতালে। গত বুধবার সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের বেমেতারা জেলার দধি থানার অন্তর্গত অখ্যাত এক গ্রামে। বেমেতারার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমল বাইস জানান, দুই অভিযুক্তের একজনের বয়স ২২। অপরজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, তার বয়স ১৩। ইতিমধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে। প্রাথমিক জেরা শেষ হলেই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশ বলছে, ২২ জুন অভিযুক্ত দুজন ওই কিশোরীকে গ্রামের এক নিরিবিলি জায়গায় ধর্ষণের চেষ্টা করে। তবে ওই কিশোরী সর্বশক্তি দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যায়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কিশোরীকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। আগে থেকে কেরোসিন তেলও ব্যবস্থা করে রেখেছিল। হাত-পা পিছমোড়া করে বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে মুহূর্তে দেশলাই মেরে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

খবরে বলা হয়েছে, তার আগে কিশোরীর মৃত্যুকালীন জবানবন্দি রেকর্ড করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। জবানবন্দির ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা ছাড়াও যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে তৈরি আইন ‘পকসো’র আওতায় পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।

আনন্দবাজার বলছে, নির্জন এলাকা হওয়ায় অভিযুক্তরা ধরেই নিয়েছিল কেউ কিছু জানতে পারবে না। তাদের অপরাধও লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যাবে। তবে আগুনে পুড়তে থাকা মানুষের আর্তনাদ কানে যায় গুটিকয় গ্রামবাসীর। তারাই অগ্নিদগ্ধ মেয়েটিকে নিয়ে যান স্থানীয় হাসপাতালে। অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় পাঠানো হয় রায়পুরে। বুধবার রায়পুরের হাসপাতালেই মারা যায় সে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত