সব ক্ষেত্রে নয়, শুধু প্রয়োজনের তাগিদে ভার্চুয়াল আদালত সম্পর্কিত আইন প্রয়োগ করতে সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সংসদে বিলটি তোলার পর এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে কমিটি। গতকাল রবিবার কমিটির বৈঠক শেষে মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। তিনি বলেন, ‘দুয়েকটি বিষয় সংশোধনের সুপারিশ করেছি। এ ব্যাপারে বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এটি (ভার্চুয়াল আদালত) সময়ে সময়ে প্রয়োগ করবে। এখন করোনার মতো সংকট দেখা দিয়েছে, জাতির নিরাপত্তার প্রশ্ন এলে, এরকম সময়ে প্রয়োজন দেখা দিলে এটি প্রয়োগ হবে। সবাই এ আইনের পক্ষে বলেছে কিন্তু বলেছে যে, এটি ধীরে ধীরে করতে হবে। কারণ ভার্চুয়াল আদালতের প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রয়োজন। তবে যে হারে মামলা বাড়ছে তাতে ভার্চুয়াল আদালতের প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির স্বার্থে সময়ে সময়ে এবং প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে ভার্চুয়াল আদালত স্থাপন করবে।’
জানা গেছে, সংসদীয় কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল বাসেত মজমুদার, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ কয়েকজন তাদের লিখিত মতামত দিয়েছেন। কমিটির বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল মজিদ খান, শহীদুজ্জামান সরকার, শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দেশে করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতিতে বিলটি উত্থাপনের প্রেক্ষাপট, এটি প্রয়োগের ক্ষেত্র, সীমাবদ্ধতা, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে এ বিলের সামঞ্জস্য ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যাস্বরূপ বক্তব্য দেন।
