পটুয়াখালীতে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ

আমন আবাদ নিয়ে উৎকণ্ঠায় কৃষক

আপডেট : ২৯ জুন ২০২০, ০৭:৫৯ এএম

মৌসুমের শুরুতেই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আমন বীজের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত ডিলারের দোকানে ঘুরেও কৃষকরা বিএডিসির বীজধান পাচ্ছেন না। এতে কৃষকরা আমন আবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।  যথাসময়ে বীজতলা তৈরি নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অনেক কৃষকের অভিযোগ, বেশি মুনাফা লাভের আশায় সিন্ডিকেট করে বীজধানের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। আর ডিলারদের দাবি, সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে একশ্রেণির অখ্যাত কোম্পানির নিম্নমানের মিশ্রজাতের ধানবীজ বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। অবশ্য কৃষি কর্মকর্তা বলেছিলেন, রবিবার (গতকাল) আরও কিছু বীজধান ডিলাররা সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত কৃষকরা বীজধান সংগ্রহ করতে পারেননি।

জেলার কলাপাড়ায় বিএডিসির বীজধান বিক্রির ডিলার কলাপাড়া শহরের গৌতম হাওলাদার, আলীপুরের শহিদ মুসল্লী, মহিপুরের সোহাগ ও ধানখালীর একজন। তারা যে পরিমাণ বীজধান পটুয়াখালী থেকে উত্তোলন করেছেন তা গত বৃস্পতিবার বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। এখন বিএডিসির কোনো বীজধান বাজারে নেই।

কৃষকরা আরও জানান, একমাত্র আমন মৌসুমে পুরো জমিতে ধানের আবাদ করেন উপকূলীয় এ জনপদের প্রায় সব কৃষক। অথচ এ সময়ে বীজের সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের কৃষক হারুণ মাঝি জানান, তার প্রায় ৯০ বিঘা জমিতে আমন আবাদের জন্য তার ব্রি-৪৯, ২৩ এবং গুটি স্বর্ণা জাতের ২১০ কেজি বীজধান প্রয়োজন। বিএডিসির ১০ কেজির বীজধানের বস্তা ৩০০ টাকায় বিক্রির কথা। কিন্তু তা বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টাকায়। বর্তমানে এ দামেও ডিলারদের কাছ থেকে তা পাওয়া যাচ্ছে না। বেসরকারি বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বীজধান প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে; তাও ভেজাল। সোনাতলা গ্রামের বেল্লাল হোসেন, হোসেনপুর গ্রামের সুলতান হাওলাদার একই কথা জানিয়ে বলেন, বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময়ে (জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত) বীজধান সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক।

উপকূলীয় জনকল্যাণ সংঘের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, বুলবুলের কারণে কোনো কৃষক বীজধান সংগ্রহ করতে পারেননি। তাই এখন সব কৃষকের বীজধানের প্রয়োজন রয়েছে। ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে বীজধান কিনে বীজতলা তৈরি করতে হবে।

কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় আমনের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ৮৬ হাজার একর। এজন্য প্রয়োজন ৮৬০ টন বীজধান। কিন্তু বিএডিসি থেকে সর্বোচ্চ ৪০ ভাগ সরবরাহ করা হলেও বাকি ৬০ ভাগ কৃষককে বাইরে থেকে চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে। বিএডিসির ডিলার গৌতম চন্দ্র হাওলাদার জানান, তিনি প্রায় সাড়ে সাত টন বীজধান এনেছেন। এখনো পাওনা রয়েছে আড়াই টন। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার ২২৫ প্যাকেট ধানের বীজ এনেছিলেন। তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।

সিন্ডিকেট করে বীজধানের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, সরকারিভাবে কৃষককে ন্যায্যমূল্যে বীজধান ক্রয়ের জন্য বিএডিসি চাহিদার ৩০ ভাগ বীজধান প্রতি বছর সরবরাহ করে আসছে। এ বছর চাহিদা বাড়িয়ে ৪০ ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু গেল বছরের ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তা-বে অধিকাংশ ধান চিটা হয়ে গেছে। ফলে শতকরা ৯৫ ভাগ কৃষক স্থানীয়ভাবে বীজধান সংগ্রহ করতে পারেননি। তাই চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত