প্রধানমন্ত্রীর উপহারে নয়ছয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

আপডেট : ৩০ জুন ২০২০, ০৬:৩২ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের তালিকা তৈরিতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চার জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের কথা উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে গত ২১ জুন কসবা পৌরসভার কাউন্সিলর মো. আবু জাহের, ২২ জুন কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, ২৩ জুন খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ খান এবং ২৪ জুন বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ জমা পড়েছে। একই সঙ্গে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর ওইসব অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

কসবা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবু জাহেরে বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের তালিকায় থাকা ১১টি নাম দিয়ে তাদের সঙ্গে কাউন্সিলরের আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এছাড়া ওই ১১ জনের মধ্যে একাধিক বিত্তশালী আছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আত্মীয়করণ, বিত্তশালী, নিজের অনুসারী, পৌরসভার বাসিন্দা, ভুল তথ্য দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তকরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগের সঙ্গে ৩৪ জনের নামের তালিকা জুড়ে দেওয়া হয়। আর উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ৩৩ জনের নাম তালিকায় ওঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। স্বজনের নামের পাশে নিজের মোবাইল ফোন নম্বর, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ও বিত্তশালীদের নাম তিনি অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই চেয়ারম্যানের তালিকায় স্থানীয় মুসলেম খানের ছেলে শাহাদাত খানের নাম থাকলেও নম্বর দেওয়া আছে খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ খানের।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। তিনি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ১২০ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সৌদিপ্রবাসী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিত্তশালীদের নাম রয়েছে।

তবে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মানিক মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার যে আত্মীয়স্বজনের কথা বলা হচ্ছে তারা খুব গরিব।’

খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ বলেন, ‘দুয়েকটা ভুল থাকতে পারে। আমার আত্মীয় খুব গরিব শাহাদাত খানের নামের সঙ্গে যে আমার ফোন নম্বর গেছে সেটা আমি জানি না। অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর তালিকা হয়। যদি কোনো মেম্বার তালিকা দিতে গিয়ে স্বজনপ্রীতি করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আল মামুন ভূঁইয়া বলেন, ‘মেম্বারদের মাধ্যমে নাম এনে সবার সিদ্ধান্ত নিয়ে তালিকা দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই-বাছাই করেন। তবে তালিকায় আমার কোনো আত্মীয়স্বজনের নাম নেই।’ আর অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবু জাহের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আত্মীয়স্বজনের নাম থাকলে কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত