মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) শওকত আলী (৬৮) বীর প্রতীক মারা গেছেন। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। ১০ দিন ধরে তিনি সেখানে ভর্তি ছিলেন।
শওকত আলীর ছেলে মো. ইমরান মোরশেদ আলী সংবাদমাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তার বাবা হার্ট, লিভার ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। আজ দুপুরে চট্টগ্রামের গরিব উল্লাহ শাহ মাজারে জানাজা শেষে সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
শওকত আলীর পৈতৃক নিবাস নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার কট্টেশ্বর গ্রামে হলেও তার পরিবার চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় বসবাস করে। তার জন্ম, বেড়ে ওঠাও চট্টগ্রাম শহরে। বাবা রেলওয়ের চিফ ট্রাফিক ম্যানেজার এম আশরাফ আলী ও মা শিরিন আরা বেগম। সেন্ট প্ল্যাসিড স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ভর্তি হন চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট কলেজে। ১৯৭০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ^বিদ্যালয়ে ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শওকত আলী চট্টগ্রামে অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৯৭১-এর এপ্রিলে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন।
ফেনী নদীর নিকটবর্তী এলাকায় অপারেশনের সময় পাকিস্তানি সেনাদের শেল এসে পড়ে তার সামনে। একটি স্পিøন্টার বিদ্ধ হয় তার ডান পায়ের গোড়ালির নিচে। পরে গৌহাটি বেইজ হাসপাতালে অপারেশন করে তা বের করে আনা হয়। এরপর ১৯৭১ সালের মে মাসে রিক্রুট হন সেনাবাহিনীতে। তারপর সাড়ে চার মাস ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। ১২ অক্টোবর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগ দেন ১ নম্বর সেক্টরে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি যুদ্ধ এবং হেঁয়াকো-নাজিরহাট এলাকায় একাধিক লড়াইয়ে অংশ নেন তিনি।
