চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ০৫:৩৮ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মুন্না পাশি (১২) ও জগৎ নুনিয়া (১৩) নামে ওই দুই শিশুকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে গাছের সঙ্গে বেঁধে কয়েকজন মিলে মারধর করে। পরে বিকেল ৩টার দিকে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসী ও নির্যাতিতদের পরিবারের সদস্যরা জানায়, গতকাল সকালে চুরির অপবাদ দিয়ে মামুন নামে কুরমা চা বাগানের এক কর্মচারী নির্যাতিত দুই শিশুকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নারদ পাশিসহ কয়েকজন মিলে বাগান ঘরে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে তাদের মারধর করেন। এরপর তাদের দুজনকে কুরমা চা বাগান ফ্যাক্টরির সামনে গাছের সঙ্গে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বেঁধে রাখেন।

নির্যাতিত মুন্নার মা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইউপি সদস্য দীপেন সাহা উপস্থিত থেকে তাদের পিটিয়েছেন। সঙ্গে ছিল চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নারদ পাশি, শাহাদত হোসেন ও সাদেকসহ অনেকে। বিকেল ৩টায় মুচলেকা নিয়ে শিশুদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বিকেল ৪টায় মুন্না ও জগৎকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। নির্যাতনের ঘটনায় তারা থানায় মামলা করবেন বলেও জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য দীপেন সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছেলেদের বেঁধে রাখা হয়েছিল। তবে নির্যাতন করা হয়নি। কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যানেজারের কথায় শিশুদের প্রথমে ছাড়তে পারিনি। পরে বিকেল ৩টার পর অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মোবাইল ফোন চুরির জন্য ওই শিশুদের আটকানো হয়েছিল। তবে পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে পুলিশের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, শিশুদের ওপর নির্যাতনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত