অর্থনীতি পুনরুদ্ধার

বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর উদ্যোগ চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ০৭:২৮ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ স্থবিরতা দূরীকরণে দ্রুত নতুন নীতিমালা প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় বাণিজ্য নীতিমালা সংস্কার করতে হবে। নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে হবে, দেশের স্বাভাবিক উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতিমালা সংস্কার করতে হবে, ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া  দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে যথাযথ কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।

রিসারজেন্ট বাংলাদেশ আয়োজিত তৃতীয় সংলাপ ‘অনিশ্চিত সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগ : বাংলাদেশে কভিডের প্রভাব এবং নীতিমালার প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব পরামর্শ দেন আলোচকরা। রিসারজেন্ট বাংলাদেশ এমসিসিআই, ডিসিসিআই, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বিল্ড ও পলিসি এক্সচেঞ্জের একটি উদ্যোগ। এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এবং রিসারজেন্ট বাংলাদেশের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য আসিফ ইব্রাহীম কভিড থেকে উত্তরণে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং  উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশে^ শিল্প উৎপাদন খাতে আসা পরিবর্তনগুলো, বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকার যাচাই এবং তাদের দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিস্থিতি, সুযোগ, সংশ্লিষ্ট নীতিকাঠামোসহ অন্যান্য বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে জোর দেন। এ অবস্থা থেকে অর্থনৈতিক উত্তরণে  বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর কাস্টমস ও লজিস্টিক বিষয়গুলোর দুর্বলতার সমাধান, বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, স্থানীয় ও বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাদের লেলে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ওপর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন। গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসের আজমান বলেন, সামগ্রিক নীতিকাঠামোর সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি করকাঠামো ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ব্যবসায়ী মহলের নিয়মিত আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এনবিআরের আরও একজন সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল যথা অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এনবিআর ও করকাঠামোর আধুনিকায়নের পরামর্শ দেন। বিল্ডের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান চীন ও ভারতের বিশাল বাজারের সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের সঙ্গে যেসব সরকারি সংস্থা জড়িত তারা যেন আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান ও কোনো রকম হয়রানি না করে, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করতে হবে। শুধু বিদেশি বিনিয়োগই নয়, স্থানীয় বিনিয়োগ আকর্ষণেও সম্ভব সবকিছু করতে তিনি সরকারের সহায়তা কামনা করেন। সাংসদ ও পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে উৎসাহ দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কমিটির সচিব ওয়াসেকা আয়শা খান কভিডের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্নমুখী প্রকল্প ও কর্মকৌশলের প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সহজে ব্যবসা করার সূচকে উন্নতির জন্য ও বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন ইসলাম বলেন, প্রণোদনা ও প্রতিযোগী শ্রমবাজার বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে সাহায্য করবে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকার খেলাপি ঋণ হ্রাস ও কাস্টমস আইন যুগোপযোগীকরণের ক্ষেত্রে যথাযথ নীতি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিতে উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ওয়ান স্পট সার্ভিসের সুবিধা আরও সুন্দরভাবে প্রদান করা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত