বদহজম কেন হয়

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ০৮:০৩ এএম

অনেক খাবার ও মৌসুমি ফল খেলে অনেক মানুষের বদহজম হয়। সাধারণত, হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের গ্রহণ করা খাবারগুলো পাকস্থলীর ভেতরে গ্যাস্ট্রিক জ্যুসের সঙ্গে মিশ্রিত হয় এবং নরম হয়ে যায়। এর পরবর্তী ধাপে এই মিশ্রণ অন্ত্রনালিতে যায়। খাবার গ্রহণের ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই খাবারের অর্ধেক অংশ পাকস্থলী থেকে চলে যায়। পাকস্থলী খালি হয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াতে যদি কিছুটা দেরি হয় তাহলেই খাবার ও বাতাস অনেকটা বেশি সময়ের জন্য পেটে থাকে। ফলে বদহজমের বোধ হয়। বদহজমের বড় কারণ ফাংশনাল ডিসপেপসিয়া। নানারকম ওষুধ, ডায়াবেটিস এবং উদ্বিগ্নতার মতো সমস্যার কারণে এমনটা হতে পারে। হেলিকোবেক্টার নামক একটি ভাইরাসের আক্রমণে হওয়া হাইপার এসিডিটির কারণে গ্যাস্ট্রিটিস নামক সমস্যা হতে পারে। এমনকি গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবেও বদহজম দেখা দিতে পারে।

লক্ষণ

 বুক জ্বালা

 তলপেটে অস্বস্তি

 শরীর ফোলা লাগা

 গা গোলানো বা বমি ভাব

 মুখের স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া

 একনাগাড়ে ঢেঁকুর বা হেঁচকি ওঠা

 পেটব্যথা

রোগীদের খাবার

ময়দার রুটি বা পাউরুটি, সরু বা আতপ চালের ভাত, পোলাও, সাদা আটার রুটি ইত্যাদি খাবার নিয়মিত বদহজম হয় এমন রোগীর না খাওয়াই ভালো। চিপস, কুকিজ বা বেকারির বিস্কুট, কফি ও কার্বনযুক্ত পানীয়ও তাদের জন্য খারাপ। মাংসের তৈরি খাবারও তাদের সমস্যা বাড়াতে পারে। এমন রোগীদের জন্য পূর্ণ দানাদার শস্যের তৈরি খাবার উপকারী। যেমন : লাল চালের ভাত, লাল আটার তৈরি রুটি, ওটমিল, বরবটি, মটরশুঁটি, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি তাদের জন্য ভালো। শুষ্ক ফল যেমন কিশমিশ খেতে পারেন। প্রচুর পানি পান করতে হবে। আঁশযুক্ত খাবারও খেতে হবে।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

ডাক্তার বদহজমের কারণ নির্ণয় করতে একটি বিশদ ইতিহাস বের করে থাকেন এবং সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করেন। এরপর রোগীর জন্য একটি সেরা চিকিৎসার পরিকল্পনা স্থির করে থাকেন। বদহজমের তীব্রতা এবং দীর্ঘকাল স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে, আলসার বা গ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স ডিজিজ চেক করার জন্য এন্ডোস্কোপি করার প্রয়োজন হতে পারে। রোগটি মারাত্মক পর্যায় না পৌঁছনো অবধি রক্ত এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম জাতীয় ইমেজ ভিত্তিক পরীক্ষাগুলো খুব একটা সাহায্য করে না।

করণীয়

যেহেতু বদহজম হলো মূলত একটি জীবনযাপন পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ব্যাধি তাই খাওয়া-দাওয়া ও জীবনযাপনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে সুস্থ হওয়া সম্ভব। পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে ধীরেসুস্থে খাওয়া, সঠিক সময় বা নিয়মিত খাবার খাওয়া, প্রচুর পরিমাণে তরল পদার্থ পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, অতিরিক্ত মসলাদার খাবার বা ফ্লেভারযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, অনেক রাতে খাবার না খাওয়া, কফি এবং অ্যালকোহল ছেড়ে দেওয়া। ‘জিরা’ বা কিউমিন জলের মিশ্রণ গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং বুক জ্বালা কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শে নানা ধরনের গ্যাস্ট্রিক জুস নিয়ন্ত্রক ওষুধ, প্রোবায়োটিক কিংবা কম্বিনেশন থেরাপি এক্ষেত্রে উপযোগী।

বদহজম প্রাথমিক অবস্থায় তেমন মারাত্মক কোনো অসুখ না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্যানসারসহ নানা মারাত্মক অসুখে মোড় নিতে পারে। তাই নিয়মিত বদহজমে ভুগতে থাকলে দেরি না করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত