চীনের উত্তেজনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টাপাল্টি দূতাবাস বন্ধ নিয়ে যখন ওয়াশিংটন-পেইচিং উত্তেজনা চরমে তখনই বল প্রয়োগ করে টেক্সাসের হিউস্টনের বন্ধ ঘোষিত চীনা দূতাবাসের ভেতরে ঢুকেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। গতকাল শনিবার সিএনএনের খবরে বলা হয়, হিউস্টনের চীনা কনস্যুলেটের সীমানার মধ্যে বেশ কয়েকটি কালো এসইউভি ভ্যান, ট্রাক, দুটি সাদা ভ্যান এবং একটি তালা ভাঙার ভ্যান প্রবেশ করেছে। এছাড়া টুইটার, ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতেও দেখা গেছে বেশ কয়েক কর্মকর্তা ওই দূতাবাসের দরজা খোলার চেষ্টা করছেন।
গত শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, টেক্সাসের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি তদন্তে কনস্যুলেটের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তারা জানান, চীনা কনস্যুলেট কর্মকর্তারা ‘গবেষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতেন এবং কোন তথ্য সংগ্রহ করতে হবে সে সম্পর্কে তাদের পরামর্শ দিতেন।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সে সময় তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন ‘মেধাস্বত্ব সম্পদ এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায়’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে তারা জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃত চুক্তি অনুসারে বিদেশি কূটনীতিবিদদের তারা যে দেশে অবস্থান করছেন, তার আইনকানুন মেনে চলা উচিত। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানো মোটেই উচিত নয় তাদের। কিন্তু হিউস্টনের চীনা কূটনীতিবিদরা এসব শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। তাই যুক্তরাষ্ট্র সরকার কনস্যুলেটটি বন্ধের আদেশ দিয়েছে।
এর দুদিন পর গত শুক্রবার চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংডুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেয় চীন। ওই চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে তা চীন দেখতে চায় না এবং এর সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তারা যেন তাদের ভুল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। ওই পদক্ষেপের এক দিন পর গতকাল হিউস্টনের চীনা কনস্যুলেটে প্রবেশ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কথা স্বীকার
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হওয়া সিঙ্গাপুরের এক নাগরিক চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কথা স্বীকার করেছেন। জুন ওয়েই ইয়ো নামের ওই ব্যক্তি আমেরিকায় রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে চীনা গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে লাগিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার জুন ওয়েই ইয়ো ওরফে ডিকসন ইয়ো একটি ফেডারেল কোর্টে চীনা সরকারের অবৈধ এজেন্ট হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই কাজ করেছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে জনগণের জন্য প্রকাশযোগ্য নয় এমন সব তথ্য চীনা সরকারের সংগ্রহের ক্ষেত্রে কাজে লাগাচ্ছেন।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইয়ো জানিয়েছেন, উচ্চ মাত্রায় নিরাপত্তার স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের তিনি খুঁজে বের করতেন এবং ভুয়া মক্কেলদের জন্য প্রতিবেদন তৈরি করতেন তাদের নিয়ে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথকভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি গোপন রাখা এক চীনা গবেষককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
