প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য আবারও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে দায়ী করে বলেছেন, নৃশংস এই হত্যাকা-ের পর বাংলাদেশের জনগণ সব সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলেছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা উপহার দেন। কিন্তু যারা এই স্বাধীনতা চায়নি ও এতে বিশ্বাসও করে না এবং যারা দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে স্বাধীনতার জন্য কোনো সহায়তাই করেনি তারাই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে এমন এক সময়ে হত্যা করা হয় যখন স্বাধীনতার পর তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল।
গত রবিবার নগরীতে আওয়ামী লীগের কৃষক সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত এক স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন ও বক্তব্য প্রদান করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত স্মরণে ৪৫তম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষক লীগ ধানম-ি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে এই স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে অব্যাহতভাবে কাজ করতে বিকেএলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বাঙালির কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গঠন করতে বঙ্গবন্ধু তার জীবন উৎসর্গ করেন।
জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ যাতে উন্নত জীবন পায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
সরকার ও দলের পক্ষ থেকে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গরিব, এতিম ও অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
তিনি দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়ার এবং তার আদর্শ বাস্তবায়নে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এ জন্য জাতির পিতা সম্পর্কে সবাইকে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়লে তার আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করতে পারবেন।’
দুঃসময়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় আওয়ামী লীগ এবং এর সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘করোনার এই সময়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোও ভালো কাজ করছে।’
তিনি শোকের মাসে তার পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং বলেন, ‘এই মাসে আমি আমার সবাইকে হারিয়েছি, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, এমপি।
