গ্যাস আমদানির সঙ্গে অনুসন্ধান চলছে : জ্বালানি উপদেষ্টা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ০৬:৫৪ এএম

দেশে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে জ্বালানি আমদানির বিকল্প ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী বলেছেন, সরকার এর সঙ্গে দেশি উৎসগুলো কাজে লাগাতে চেষ্টা করছে।

গতকাল রবিবার ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একদিকে নতুন শিল্পায়ন শুরু হয়, অন্যদিকে মজুদ গ্যাসের অপর্যাপ্ততা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ করে এলএনজি আমদানির পথ সুগম করেন। বর্তমান চাহিদার আলোকে দেশীয় জোগানের পাশাপাশি এলএনজি এখন জ্বালানির প্রয়োজনীয় একটি উৎস।

দেশি খনি থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানসম্পন্ন ও সুলভ জ¦ালানির নিরাপত্তা নিশ্চিতে জ¦ালানি বৈচিত্র্যের বিকল্প নেই। জ্বালানি আমদানির পেছনে যুক্তি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এখন আমাদের হাতে আছে শুধু গভীর সমুদ্রের গ্যাস। কিন্তু আজকে আবিষ্কার হলেও তা কাজে লাগাতে আরও প্রায় ১০ বছর সময় লেগে যাবে। সুতরাং কোনো কিছুর অপেক্ষায় বসে থাকলে চাহিদার জোগান দেওয়া সম্ভব হবে না। একাধিক বিকল্প নিয়েই এগোতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে ২৭টি কূপ থেকে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু ক্রমাগতভাবে চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি নিশ্চিতে আমদানি করতে হচ্ছে। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও চাহিদা কমেনি। ফলে বোঝা যায় শিল্পগুলো উৎপাদনে ফিরতে পেরেছে।

জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে অহরহ। সবদিক বিবেচনা করেই আমরা মিক্স ফুয়েলের দিকে গিয়েছি, যাতে কোনো একটি উৎসে সমস্যা হলেও তাতে সবকিছু থমকে না যায়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জমান। বলেন, বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। এখানে ফুটো করতে করতে একেবারে ঝাঁজরা হয়ে গেছে। অনশোরে নতুন করে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। পুরনো ও পরিত্যক্ত গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় এখন চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০১০ সালে গ্যাস থেকে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উপাদন হলেও সেটাকে কমিয়ে আনা হচ্ছে। ২০৩০ সালে সেটা ৪৫ ও ২০৪১ সালে ৩৫ শতাংশে নেমে আসবে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে। বর্তমান বিশ্ববাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এলএনজি আমদানি বাড়ানো যেতে পারে বলেও মত এ বিশেষজ্ঞের।

তিনি জানান, এলএনজিকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এখন ৬৫০ এমএমসিএফডি আমদানি হচ্ছে। এটা বাড়াতে হবে। এই মুহূর্তে এলএনজির দাম খুবই কম। তাই স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। যেহেতু দাম কম তাই এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে দেশি উৎপাদন কমিয়ে দেশের গ্যাসের লাইফ বাড়াতে হবে। অবশ্য প্রবন্ধে বিশ্ববাজারে এলএনজির দরপতনের সঠিক কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি তিনি।

ঝাঁজরা করে দেওয়া হয়েছে এমন দাবির বিরোধিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সারা দেশে যে পরিমাণ ড্রিলিং করা হয়েছে, অনেক সময় একটি খনিতে এর চেয়ে বেশি ড্রিলিং হয়ে থাকে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, স্থলভাগে সম্ভাবনা খুব একটা নেই, সে ব্যাপারে আমারও দ্বিমত রয়েছে। অনেক জায়গায় সম্ভাবনা রয়েছে।

ফোরাম অব এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের সভাপতি অরুণ কর্মকার বলেন, গত ১০ বছরে ৯ টিসিএফ গ্যাস কনজাম্পশন হলেও আবিষ্কার হয়েছে মাত্র এক টিসিএফ। অন্যান্য খাতে উন্নয়ন হলেও জ¦ালানিতে তেমনটা হয়নি। দেশে প্রচুর জ্বালানি আমদানি হচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকলে একসময় এমন আমদানির চাপ সহ্য করা কঠিন হবে।

‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার’ সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন বলেন, নিজস্ব জ¦ালানিকে অলস রেখে শুধু আমদানির দিকে ঝুঁকলে ভৌগোলিক রাজনীতির কারণে সংকট তৈরি হতে পারে।

জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জ্বালানি বিভাগের সচিব আনিছুর রহমান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান সরকার, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবিএম আবদুল ফাত্তাহ, বিপিসির চেয়ারম্যান সামছুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত