মন্ত্রণালয়গুলোর অনীহায় আটকে আছে অর্পিত সম্পত্তি বিধিমালা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ০৩:২৩ এএম

বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাড়া পায় না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এজন্য রীতিমতো তাগাদা দিতে হয়। অথচ একটি নির্ভুল আইন করার জন্য বা কোনো একটি আইনের যথাযথ বিধি তৈরির জন্য অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ধাপে ধাপে আইন সংশোধনের পর ২০১৭ সালে ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের আওতায় প্রাপ্ত সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা’ প্রণয়নের কাজে হাত দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সারা দেশের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মতামত নিয়ে বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। বিধিমালা প্রণয়নের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতও নেওয়া হয়। কিন্তু ২০২০ সালে বিধিমালাটি জারি করতে গিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মনে হচ্ছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের মতামত পাওয়া দরকার ছিল সেই সময় তা পাওয়া যায়নি। অর্পিত সম্পত্তির বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার পরও তারা তাতে কোনো জোরালো মতামত দেয়নি।

এ অবস্থায় গত মাসে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পেন্ডিং কাজের পর্যালোচনা করতে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, অর্পিত সম্পত্তির বিধিমালাটি এখনো জারি করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন ভূমি সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিধিমালার আদেশ জারি না করে পুনরায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের মতামত নিয়ে বিধিমালাটি জারি করে হবে। একই সঙ্গে পুনরায় সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের মতামতও চাওয়া হয়। গত ১১ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার খসড়া বিধিমালার ওপর তাদের মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ চাওয়া হয়। এক মাসের মধ্যে তাদের মতামত চাওয়া হলেও গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত কোনো মতামত ভূমি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি।

ভূমি সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের আওতায় প্রাপ্ত সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার খসড়া বিধিমালার ওপরে যে ধরনের সুচিন্তিত মতামত আসার কথা ছিল আমরা তা পাইনি। এ ক্ষেত্রে যে পরিমাণ মতামত আসার কথা ছিল তাও আসেনি। এসব কারণে আইনটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুনরায় সব মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে।’

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খসড়া বিধিমালার ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়ার চিঠি পাঠানো হয়েছে গত ১১ জুলাই। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাতে এ চিঠি যেতে যেতে আরও কয়েক দিন লেগেছে। একটি মন্ত্রণালয় এ ধরনের একটি বিধিমালার ওপর হুট করেই মতামত দিতে পারে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি অর্পিত সম্পত্তির অংশীজন হয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা অধিদপ্তর থেকে মতামত নিতে হবে। তারপর নিজেদের মধ্যে একটি বৈঠক করে মতামত প্রস্তুত করতে হয়। অন্য মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠানোর আগে সেই মতামত সচিব পর্যায়ে অনুমোদিত হতে হয়। এত নিয়মকানুন অনুসরণ করে মতামত পাঠাতে আরও কিছুদিন সময় প্রয়োজন বলে তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

একটি মন্ত্রণালয়ের সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে জানান, অর্পিত সম্পত্তি আইনটি একটি জটিল আইন। ২০০১ সালে আইনটি হওয়ার পর অনেক দিন আইনটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আইনটি দফায় দফায় সংশোধন করা হয়। নানা সময় আইনটি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এসব কারণে আইনটি নিয়ে মতামত দিতে সময় নেয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়।

তিনি আরও জানান, শুধু অর্পিত সম্পত্তির মতামত দিতেই তারা সময় নিচ্ছেন বিষয়টি এমন নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অনেক সময় তাগাদা দিয়ে মতামত নিতে হয়। অন্য মন্ত্রণালয়ের কোনো একটি বিষয়ে মতামত দিতে গেলে পুরো বিষয়টি বুঝতে হয়। বর্তমানে কর্মকর্তাদের এ ধরনের বিষয় নিয়ে কাজ করায় আগ্রহ কম বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেকোনো আইন প্রণয়ন করার আগে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন হয়। আমরা ওষুধ আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করছি গত পাঁচ বছর ধরে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতামত পেতে অনেক সময় লাগে। বেশিরভাগই মতামত দিতে চায় না। দিলেও তাদের অনেক মতামত প্রাসঙ্গিক হয় না। অবার অন্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া মতামত ইচ্ছা করলেই বাদ দেওয়া যায় না। তাদের মতামত বাদ দিতে হলে তখন শক্ত যুক্তি থাকতে হবে।’

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তাদের আরও কিছু আইন ও বিধির বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন, ২০১৬’, ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল (সংশোধন) আইন, ২০১৯’, ‘ভূমি ব্যবহারস্বত্ব গ্রহণ আইন, ২০২০’।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়কেই বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার মতামত নিয়ে ভুগতে হয়। মতামত পেতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। আবার অনেক সময় প্রাপ্ত সেসব মতামতের সংশ্লিষ্টতা থাকে না।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রুলস অব বিজনেসে বলা আছে কোন কোন বিষয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের মতামত নিতে হবে। কোন কোন বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করতে হবে। মতামত চাওয়ার পর যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় মতামত না দেয় তাহলে ধরে নেওয়া হয় এ বিষয়ে তাদের বলার কিছু নেই।’

২০০১ সালে অর্পিত সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইন করা হয়। এতে বলা হয়, যে সম্পত্তির মালিকানা খুঁজে পাওয়া যাবে না সেই সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে সরকারের দখলে চলে আসবে। আইনে দুই ধরনের অর্পিত সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছিল। ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি হচ্ছে সরকারি মালিকানাধীন সম্পত্তি। আর সরকারের মালিকানায় নেই কিন্তু অর্পিত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে আছে সেগুলো ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি। পরে ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি এমনভাবে বিলুপ্ত করা হয় যেন কখনো এ ধরনের সম্পত্তি ছিল না। বর্তমানে ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি রয়েছে অন্তত ২ লাখ ২০ হাজার একর। আর ‘খ’ তফসিলে স্থান পেয়েছিল অন্তত সাড়ে ৭ লাখ একর সম্পত্তি।

‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা কী হবে, এ নিয়ে বিধিমালার খসড়া করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, অর্পিত সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য জেলা কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটির অন্য সদস্যরা হবেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জেলা রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রার, এসিল্যান্ড। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। বাজারদর নির্ধারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে একই শ্রেণির বিগত ১২ মাসের গড়মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। জমির ওপর ঘরবাড়ি বা স্থাপনা থাকলে নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে দর নির্ধারণ করা হবে। গাছ থাকলে বন বিভাগে এবং ফসল থাকলে কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে দর নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি সম্পত্তির অস্থায়ী ইজারার ক্ষেত্রে ডিসির অনুমোদন নিতে হবে। অস্থায়ী ইজারার নবায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিতে হবে। এসিল্যান্ড ইজারার নথি সংরক্ষণ করবেন। ইজারার অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। সরকার সময়ে সময়ে ইজারার সালামির হার পুনর্নির্ধারণ করবে। এসিল্যান্ড ইজারাদাতার পক্ষে চুক্তি করবেন। ইজারার মেয়াদ হবে এক বছর। ইজারার মেয়াদ শেষে সম্পত্তি সরকারের দখল ও নিয়ন্ত্রণে আসবে। পুনরায় ইজারার ক্ষেত্রে পূর্ব ইজারাগ্রহীতা অগ্রাধিকার পাবেন।

বিধিমালার খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইজারা দেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এডিসি রেভিনিউ তা ইজারাগ্রহীতাকে জানাবেন। ছয় মাসের মধ্যে ইজারার অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশ দেবেন। এ সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে তা বাতিল হয়ে যাবে। কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের আবেদন জানালে ডিসি ইজারা দরের ওপর ৫ শতাংশ সরল সুদে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে পারবেন। এ সময়ে মধ্যে ইজারাগ্রহীতা কোনো অর্থ প্রদান করলে তা বাজেয়াপ্ত হবে। ইজারাগ্রহীতা ইজারা দর ছাড়াও পানির বিল, সুয়ারেজ বিল, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল এবং সরকারের আরোপিত সব ধরনের বিল পরিশোধ করবেন। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করলে ইজারা বাতিল হবে। ভূমিসংক্রান্ত প্রচলিত বিধি ভঙ্গ করলে ইজারা বাতিল হবে। অনুমোদনকারী কর্র্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করলেও ইজারা বাতিল হবে। কোনো কারণে শর্তভঙ্গ হলে মিস কেস সৃজন করে সহকারী কমিশনার ডিসির অনুমোদন নিয়ে অস্থায়ী ইজারা বাতিল করবেন এবং জমির দখল বুঝে নেবেন। এ ক্ষেত্রে অস্থায়ী ইজারাপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। স্থায়ী ইজারার ক্ষেত্রে কোনো শর্তভঙ্গ হলে মিস কেস সৃজন করে ডিসি ইজারা বাতিল করবেন। একই সঙ্গে ইজারা দলিলের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা করবেন।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলে জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট আছে এমন কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আবাসিক প্রয়োজনে শহরাঞ্চলে কোনো ধরনের অকৃষি সরকারি সম্পত্তি ইজারা পাবে না। সরকারি সম্পত্তি ইজারার আবেদন ডিসির কাছে করতে হবে। ডিসি প্রতি মাসে আগের মাসের সম্পত্তির বিবরণী ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। বিধিমালার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে সরকারি সম্পত্তি ইজারা দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানের অনুমোদন লাগবে। প্রতিটি ইজারার ক্ষেত্রে ডিসি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সার-সংক্ষেপ পাঠাবেন। সার-সংক্ষেপের সঙ্গে জমির চারদিকের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের অন্তর্ভুক্ত স্থানের একটি চিটা নকশা সংযোজন করতে হবে। একই ভূমির বিষয়ে একাধিক আবেদন থাকলে ডিসি একসঙ্গে পরীক্ষা করে তার মতামত ভূমি অফিসে পাঠাবেন। স্থায়ী ইজারার ক্ষেত্রে বাজারদর নির্ধারণের রেকর্ডপত্র সঙ্গে দিতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয়, এতিমখানা, আশ্রম, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, সিমেট্রি স্থাপনের জন্য ইজারা আবেদনের সঙ্গে আবেদনকারীকে স্থানীয় সরকার কর্র্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দিতে হবে। সিটি করপোরেশনের ভেতরের এসব ছাড়পত্রে ডিসির অনুমোদন লাগবে। সিটি করপোরেশনের বাইরের ভূমির ক্ষেত্রে ইউএনওর অনুমোদনও লাগবে। শহর এলাকার বাইরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় জমির তিন-চতুর্থাংশের মালিকানা থাকতে হবে। কতদিনের মধ্য শিল্প স্থাপন করা হবে তার সময়সীমা উল্লেখ থাকবে হবে। শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি ইজারার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ইনভেস্টমেন্ট শিডিউল, ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। সরকারি সম্পত্তি ইজারার ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কোনো সমস্যা হবে না, এ মর্মে এসিল্যান্ডকে প্রত্যয়ন দিতে হবে।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ‘ডিফেন্স অব পাকিস্তান রুলস ১৯৬৫’ অনুসারে একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৬৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব নাগরিক পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে চলে যায়, তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে ‘শত্রু সম্পত্তির’ নাম বদলে অর্পিত সম্পত্তি করা হয়। সেসব সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১’ নামে আইন প্রণয়ন করে। আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তির জেলাওয়ারি তালিকা প্রস্তুত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কিন্তু আইনটি পাস হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পত্তির তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়। এরপর ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (সংশোধন) আইন, ২০১১’ সংসদে পাস হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত