বাসে স্বাস্থ্যবিধিতে যাত্রী-শ্রমিক অনীহা অতিরিক্ত ভাড়া

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:২৪ এএম

পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে বাসে বর্ধিত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি বাদ দেওয়া হলেও আগের মতোই স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত রেখেছে সরকার। তবে রাজধানী ঢাকায় চলাচলকারী বাসগুলোর মালিক-কর্মচারীরা বিষয়টি মানছেন না। একই সঙ্গে যাত্রীদের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা রয়েছে। বিশেষ করে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী না তোলার বিষয়টি কড়াকড়িভাবে পালনের নির্দেশ থাকলেও যাত্রী-শ্রমিক কেউই বিষয়টি মানছেন না। কোনো পরিবহনে শ্রমিকরা জোর করে অতিরিক্ত যাত্রী তুলছেন, আবার কোনো পরিবহনে যাত্রীরাই জোর করে উঠছেন। আবার বর্ধিত ভাড়া আদায় না করা হলেও নিয়মিত ভাড়ার চাইতে অনেক বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে যাত্রী-শ্রমিকদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে করোনাকালে গণপরিবহনে সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনো কাটেনি।

গতকাল বুধবার সকালে ধানম-ি এলাকায় দেখা যায়, সড়কে অফিসগামী মানুষের প্রচুর ভিড়। প্রতিটি বাস যাত্রীবোঝাই। এ সময় যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা কম থাকায় অনেককে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এরপরও বাস না পেয়ে কেউ কেউ জোর করে যাত্রীবোঝাই পরিবহনে ওঠার চেষ্টা করেছেন। এ সময় বাসের অন্য যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা বাধা দিলে কথা শোনেননি অফিসগামী মানুষ। বাসের বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল ও রিকশা ব্যবহার করেছেন। মতিঝিলগামী একটি বাসের যাত্রী আশফাক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাসের লোকজনই শুধু নিয়ম মানছেন না এটা বললে ভুল হবে। আমাদের যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতার অভাব আছে। সিট খালি না থাকা সত্ত্বেও অনেকে গেট ধাক্কা মেরে উঠে পড়ছেন।’

তবে যারা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাননি তারা বলেন, বাস মালিকরা ইচ্ছে করে আগের মতো বাস নামাননি। এতে যখন যাত্রী চাপ থাকে তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সকালে সময়মতো অফিসে পৌঁছানোর বিষয়টিও ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে গণপরিবহন এড়িয়ে মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাতায়াত করছেন। 

সকালে যাত্রীচাপ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ বাসে যাত্রী ছিল অনেক কম। অর্ধেক আসনেও যাত্রী ছিল না অনেক বাসে। মোহাম্মদপুর থেকে বনশ্রী পর্যন্ত চলাচলকারী তরঙ্গ প্লাস বাসের চালক আবুল কাশেম বলেন, ‘সকাল আর সন্ধ্যা ছাড়া বাসে তেমন যাত্রী পাওয়া যাইতেছে না। আমরা দাঁড়িয়ে লোক না নিতে চাইলেও অনেক যাত্রী ধাক্কা মাইর‌্যা উইঠ্যা পড়ে। কিন্তু সবাই দোষ দেয় আমাদের।’ স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাস চালাইয়া মালিক-শ্রমিক কারই তেমন আয় হইতাছে না। স্প্রে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোঁয়ার সাবান এসব বাড়তি খরচ করলে আমগোর প্যাট ধইর‌্যা টান দিতে হইব।’

এদিকে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে শাস্তি দেওয়া হবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন ঘোষণার পরও গতকাল বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীরা বলেছেন, সব বাসে অতিরিক্ত ভাড়া না নিলেও অনেক বাস এটি করছে। ক্ষেত্রবিশেষে ৫-১০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রী-শ্রমিক বাগ্বিতণ্ডা থামছে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুরগামী খাজাবাবা পরিবহনের যাত্রী ওমর আজম বলেন, ‘বর্ধিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না ঠিকই তবে এই বাসে আমার থেকে পাঁচ টাকা বেশি রাখছে। জিজ্ঞেস করলে তারা বলছে বেশি ভাড়া না নিলে নাকি তাদের সংসার চলবে না! তর্ক করি নাই দিয়া দিছি।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাসে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করে এজন্য আমরা চিঠি দিয়ে সব মালিককে জানিয়েছি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টিও প্রতিপালনের জন্য বলেছি। তারপরও যদি কেউ এসব না মানে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব যাতে সংশ্লিষ্ট বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।’

বাসে স্বাস্থ্যবিধি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের ১০-১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে জরিমানার পাশাপাশি যানবাহনের কাগজপত্রও জব্দ করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত