স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বে-নজীর আহমেদের জন্ম ১৯৫৯ সালে গাইবান্ধায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে মাস্টার্স এবং চিকিৎসা অণুজীববিজ্ঞানে এমফিল করেন। সংক্রামক রোগ বিষয়ে শিক্ষকতা, গবেষণা ও কর্মসূচি পরিচালনায় দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। বিশেষত কালাজ্বর, ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ, জলাতঙ্ক ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার জন্য সুবিদিত অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ। ২০১১ থেকে ’১৫ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের লাইন ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক বে-নজীর। এ সময় কালাজ্বর, গোদরোগ এবং চৌষট্টি জেলায় বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা প্রদান কর্মসূচি পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। উন্নত রাষ্ট্রগুলোর করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির প্রচেষ্টা, মানবদেহে করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষা এবং বাংলাদেশের জন্য ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন
দেশ রূপান্তর : মহামারী বিস্তারের একটা পর্যায়ে এসে আমরা বারবার ‘হার্ড ইমিউনিটি’র কথা শুনছিলাম। বলা হচ্ছিল যে, জনসংখ্যার ৮০ ভাগ বা একটা উল্লেখযোগ্য অংশ করোনায় আক্রান্ত হলে বাকিরা আর আক্রান্ত হবে না। এখন আর ‘হার্ড ইমিউনিটি’র কথা শোনা যাচ্ছে না। সারা দুনিয়া এখন ভ্যাকসিনের পেছনে ছুটছে। মহামারী মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আর ভ্যাকসিনের মধ্যে সম্পর্কটা কেমন আসলে?
বে-নজীর আহমেদ : ‘দিল্লি হনুজ দূর অস্ত’ আমরা আগে থেকেই বলেছি ‘হার্ড ইমিউনিটি’ হওয়া এত সহজ নয়। বাংলাদেশ কিংবা কোনো দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এটা সহজ নয়। আবার এখন যে সারা দুনিয়া ভ্যাকসিনের পেছনে ছুটছে, সেটাও কোনো নিশ্চিত সমাধান নয়। ভ্যাকসিন হলো একটা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্টারভেনশন। অর্থাৎ ওষুধ সংক্রান্ত ব্যবস্থা। ওষুধ সংক্রান্ত ব্যবস্থা অনেক ব্যয়বহুল এবং এটা প্যানডেমিকের সময় খুব কার্যকর নয়। ধরুন স্বাভাবিক সময়ে পোলিও বা হামের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন বা টিকা যতটা কার্যকর, একটা বিশ্বমহামারীতে টিকা ততটা কার্যকর হবে না। এজন্য মহামারী মোকাবিলায় আমাদের প্রতিরোধমূলক ধ্রুপদী কার্যক্রমের ওপরই জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশগুলোকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত প্রতিরোধমূলক ছয়টি শর্ত মেনে চলার ওপর জোর দিয়ে যেতে হবে। মনে রাখা দরকার এ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যারা যথাযথভাবে মেনে চলতে পেরেছে তারাই করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশি সফল হয়েছে।
ভ্যাকসিন নিয়ে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। প্রথমত ভ্যাকসিন কবে আসবে সেটা নিশ্চিত নয়। দ্বিতীয়ত বিভিন্ন রাষ্ট্র বা কোম্পানি হয়তো ভ্যাকসিন তৈরি করল কিন্তু সেটা কি সবাই পাবে? তৃতীয়ত, করোনাভাইরাসের প্রতিনিয়ত রূপান্তরের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। কারণ এখন বিজ্ঞানীরা করোনার যেসব ভ্যাকসিন তৈরি করছেন সেসব ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের যে রূপান্তর হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে। এখন করোনাভাইরাসটি যদি আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি রূপান্তরিত হতে থাকে তাহলে এ ভ্যাকসিন কাজ নাও করতে পারে। এজন্য যতদিন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের সাফল্য পাওয়া না যাবে ততদিন সবার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।
দেশ রূপান্তর : সারা বিশ্বের প্রায় ২০০টির মতো কোম্পানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে মানবদেহে ট্রায়ালে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড, চীনের সিনোভ্যাক, যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না, অস্ট্রেলিয়ার মারডক চিলড্রেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউট। সবশেষ তথ্যমতে ছয়টি ভ্যাকসিন এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে রয়েছে। এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে কি মানুষ এ বিশ্বমহামারী থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বলে মনে করেন?
বে-নজীর আহমেদ : না। আমার মনে হয় না। এখন যেসব চেষ্টা চলছে তার মধ্যে কিছু ভ্যাকসিন হয়তো সত্যিকার সাফল্য পাবে। প্রথমত পৃথিবীতে কিন্তু এখন পর্যন্ত এত দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিন তৈরি করে সাফল্য পাওয়ার উদাহরণ নেই। ২০১৪-১৫ সালের ইবোলা মহামারীর কথা মনে করুন। এখনো কিন্তু ইবোলার ভ্যাকসিন হয়নি। সবচেয়ে কম সময়ে ভ্যাকসিনের সাফল্য পাওয়া গিয়েছিল ‘হেপাটাইটিস-বি’-এর ভ্যাকসিনে, সেটাতেও ১৬ বছর লেগেছিল। এ ক্ষেত্রে আবারও বলি, করোনাভাইরাসের রূপান্তর যদি অব্যাহত থাকে এবং সে বারবার রূপ পাল্টাতে থাকে তাহলে ভ্যাকসিনের সাফল্য সহজ হবে না। দ্বিতীয়ত আমাদের ভ্যাকসিন তৈরির সামর্থ্য কতটা? আমরা কী পরিমাণ ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারব আর আমাদের কী পরিমাণ ভ্যাকসিন লাগবে সেটা হিসাব করতে হবে। উৎপাদন সক্ষমতার বিচারে চীনের মতো বৃহৎ শক্তির দেশই বলছে, তারা হয়তো বছরে দুই থেকে তিন কোটি ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক হিসাবে সব দেশে মিলিয়ে ২০০ কোটি ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। তাহলে গোটা পৃথিবীর যদি ২০০ কোটি ভ্যাকসিন প্রয়োজন হয় সেটা মিটবে কীভাবে? আর আপনি যদি দ্রুত ভ্যাকসিন বানাতে চান তাহলে তা মানসম্মত না হওয়ার আশঙ্কা আছে।
দেশ রূপান্তর : একদিকে মহামারী থেকে মুক্তির জন্য ভ্যাকসিনের অপেক্ষা, আরেকদিকে করোনা-ভ্যাকসিন বাজারজাত করা এবং কোন দেশে কাদের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হবে; কোন দেশে কাদের ভ্যাকসিন চলবে; তা নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটা মরিয়া প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। আপনি এ পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
বে-নজীর আহমেদ : এটা পুঁজিবাদী অর্থনীতির একটা বৈশিষ্ট্য। যেখানে মুনাফার সম্ভাবনা আছে সেখানে আপনি বিনিয়োগ করবেন, সেখান থেকেই লাভ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এখানে মানবতা কখনই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা নয়, ব্যবসাটাই আসল কথা। সুতরাং এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। সারা পৃথিবীই এ বাস্তবতার শিকার, বাংলাদেশও এর বাইরে নেই। ফলে পৃথিবীর বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো আর তাদের কোম্পানিগুলো যেভাবে এ ভ্যাকসিন তৈরি ও বাজারজাত করবে বাংলাদেশকে সেই প্রক্রিয়ার মধ্য থেকেই নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
দেশ রূপান্তর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে করোনার টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাবে চীনের কোম্পানি সিনোভ্যাক। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ-আইসিডিডিআর,বি চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের অংশীদার হিসেবে এ পরীক্ষা চালাবে।
বে-নজীর আহমেদ : বাংলাদেশে এখন যে ট্রায়াল হবে বা ভবিষ্যতে এমন আরও যেসব ট্রায়াল হতে পারে সেটাকে প্রথমত বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এটা অবশ্যই ভালো। কেননা এসব ট্রায়াল থেকে আমরা শিখতে পারব। এসব ট্রায়াল থেকে আমরা জানতে পারব যে, বাংলাদেশি মানুষদের দেহে এ ভ্যাকসিনগুলো কী ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারছে। সেটার একটা এভিডেন্স তৈরি হবে এমন ট্রায়াল থেকে। এটা আমাদের টিকা নির্বাচনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। অন্য যে ভ্যাকসিনগুলোর ট্রায়াল এখানে হলো না বা হবে না সেগুলো সম্পর্কে কিন্তু আমরা অন্ধকারে থেকে যাব। ভ্যাকসিন বা টিকা নির্বাচনের পদ্ধতি এসব কারণে আসলেই বেশ জটিল।
দেশ রূপান্তর : করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারক আরেক দেশ রাশিয়া বলছে, বাংলাদেশের সক্ষমতা থাকলে বাংলাদেশকে রাশিয়ার ভ্যাকসিন উৎপাদন ও স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করার অনুমতি দেবে তারা। এদিকে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় ভ্যাকসিন তৈরি করে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে বাংলাদেশে বাজারজাত করার বিষয়ে একটি চুক্তি করেছে।
বে-নজীর আহমেদ : রাশিয়ার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল ফেইসগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না সেটা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সন্দেহ পোষণ করেছেন। আবার অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে দেশের একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাজারজাত করার যে কথা হচ্ছে, এসব ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। যেমন আমরা জানি যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হচ্ছে শুধু শ্বেতকায় মানুষদের মধ্যে। এখন ইউরোপীয় আবহাওয়ায় সেখানকার শ্বেতকায় মানুষের ওপর ট্রায়াল চালানো এ ভ্যাকসিনগুলো অশ্বেতকায় বাংলাদেশের মানুষের শরীরে কতটা কাজ করবে সেটা কিন্তু এখনই বলা সম্ভব নয়। ফলে এসব প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের আরও ভাবতে হবে। এখানে যদি পুঁজিবাদী অর্থনীতির বাণিজ্যের বিষয়টি চলে আসে তাহলে বিভিন্ন দেশ আর কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশকে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটা বিপদের আশঙ্কা আছে। কেননা আমাদের দেশে এখন যারা ব্যবসায়ী তারাই রাজনীতিবিদ। তারাই পার্লামেন্টে আইন বানাচ্ছেন তারাই এখানকার বাজার নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা রাখছেন। সেই বিবেচনায় চীনই হোক আর রাশিয়া কিংবা ভারত বা অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন কোনটা আমাদের সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন সেটা নির্ধারণ করা জরুরি।
দেশ রূপান্তর : এসব প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ কয়েকটি সংস্থার জোট বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। যাদের সামর্থ্য নেই তারা যাতে ভ্যাকসিন নিয়ে বৈষম্যের শিকার না হয় সেজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৯০টি দেশের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এ তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে। সংক্রামক রোগ নিয়ে আপনি দীর্ঘদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন। এ উদ্যোগ সম্পর্কে কিছু বলুন।
বে-নজীর আহমেদ : এটা একটা ভালো উদ্যোগ। এখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আছে, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন-‘গাভি’ আছে এবং অসলোভিত্তিক ‘কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন্স-‘সেপি’ আছে। জাতিসংঘ এ উদ্যোগকে সমর্থনও দেয়। কিন্তু এ উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশকিছু অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গণমাধ্যমে দেখলাম অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন তার দেশ এ উদ্যোগে থাকবে না। এছাড়া আরও অনিশ্চয়তা হচ্ছে যে এরা এত ভ্যাকসিন পাবে কোথায়? কার কাছ থেকে কিনবে? এসব নিয়ে আসলে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
দেশ রূপান্তর : ভ্যাকসিন কবে পাওয়া যাবে সে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও কভিড-১৯ মোকাবিলা জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সম্প্রতি কিছু প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে। তারা এখন থেকেই টিকা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ উৎপাদন বা কেনার প্রস্তুতি রাখা, টিকা পাওয়ার পর তা সংরক্ষণ, বিতরণের পরিকল্পনা ঠিক করে রাখা এবং টিকা পাওয়ার পর জনসংখ্যার কারা অগ্রাধিকার পাবে তা এখনই ঠিক করে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী?
বে-নজীর আহমেদ : জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিতে আমাদের সহকর্মীরা প্রস্তুতির যে কথা বলছেন, সেটা তো অবশ্যই নেওয়া দরকার। কিন্তু সেটা সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত হতে হবে। এখন ধরুন আমি নিজে ‘ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ’-‘নাইট্যাগ’-এর সদস্য। এটা দেশের টিকাদান বিষয়ক সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ কমিটি। আমরাও নাইট্যাগের পক্ষ থেকে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। এখন বিষয়টা হলো সরকার কোন পথে হাঁটছে বা কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সেটা অনেক সময় আমরা সংবাদমাধ্যমের বরাতেই জানি। এ বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে দুটো সুবিধা হয়। প্রথমত কী হতে যাচ্ছে কাজে নামার আগেই সেটার ভালো-মন্দ, ভুল-ত্রুটিগুলো শোধরানোর সুযোগ থাকে। দ্বিতীয়ত এখানে একটা আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। তখন বিতর্ক কম হয়। এখন ধরুন এমন একটা বিশ্ব মহামারীতে টিকাদান কর্মসূচি একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। ফলে এ বিষয়ে যে কানো অবস্থান গ্রহণের আগে অবশ্যই একটা কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। সেটা সরকারেরই তৈরি করা টিকাদান বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটি ‘নাইট্যাগ’ হতে পারে। তবে ওই কমিটিকে অবশ্যই স্বাধীন হতে হবে যাতে জনস্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।
