কঠিন দুঃসময়ে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডকে (সিএসএ) চিঠি দিয়ে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার অলিম্পিক কমিটি। সাধারণত অলিম্পিক কমিটি সরকারি শাসিত হয়। কিন্তু আইসিসির নিয়ম বলছে, কোনো ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ হলে তাদের আইসিসির অধীনে আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে বহিষ্কার করা হবে। সে অনুযায়ী সিএসএ আপাতত বহিষ্কার হওয়ার পথে চলে গেছে।
কিন্তু সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজে উঠে এসেছে আশার কথা। সংবাদ সংস্থাটি বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকান স্পোর্টস কনফেডারেশন অ্যান্ড অলিম্পিক কমিটি (এসএএসসিওসি) সরকারি সংস্থা হিসেবে স্বীকৃত নয়। আবার দুর্নীতির অভিযোগ এনে সিএসএর প্রধান নির্বাহী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর যে চিঠি দিয়েছিল এসএএসসিওসি তা প্রত্যাখান করেছে সিএসএ কর্মকর্তারা। তারা নিজেদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা এখনই নিষিদ্ধ হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত নয়। আইসিসিও এ ব্যাপারে এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের জন্য দুশ্চিন্তার ব্যাপারও আছে। এসএএসসিওসি সরকারি সংস্থা হিসেবে স্বীকৃত না হলেও সংস্থাটি দক্ষিণ আফ্রিকার সমস্ত ক্রীড়া ফেডারেশনের সদস্য এবং এ ফেডারেশনগুলোকে প্রশাসনের অধীনে রাখার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। গত সোমবার এক সভায় এসএএসসিওসির সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মত ভোটের মাধ্যমে পাস হয়। দেশটির ক্রীড়া ও বিনোদন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়া ওই সভার সিদ্ধান্তই বলে দিচ্ছে সিএসএর ওপর কর্র্তৃত্ব নেওয়ার আদেশ সরকারের পক্ষ থেকেই এসেছে। এদিক থেকে আবার কপাল পুড়তে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার। আইসিসি এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করলেই ব্যাপারগুলো স্পষ্ট হবে। আইসিসি জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের সঙ্গে আলোচনা করবে। আইসিসির সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপজনিত উকিল ডেভিড বেকার এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি শুরু থেকেই পর্যবেক্ষণে রেখেছে আইসিসি। এসএএসসিওসির লক্ষ্য সিএসএতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করবে তারা। এজন্য একটি টাস্ক টিম গঠন করা হবে। যারা বোর্ডের ভেতরকার ব্যাপারগুলো তদন্ত করে এক মাসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। তাই চিঠি দিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
