আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ’ বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে একটি নতুন অধ্যায়। গতকাল মঙ্গলবার অ্যাপটির উদ্বোধন উপলক্ষে অনলাইন আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে সভায় যুক্ত করেন ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির উদ্যোগে ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ’ তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপটি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে একটি নতুন অধ্যায়। এর মাধ্যমে রোগীরা চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অ্যাপে রোগীদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে এই তথ্য পরবর্তী সময়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ঘোষণা করে, ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হবে। একটি উন্নত সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ, একটি ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠী, রূপান্তরিত উৎপাদন ব্যবস্থা, নতুন অর্থনীতি সব মিলিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্নই দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই স্বপ্ন ২০২১ সালের আগেই বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে।’
দেশে দু’ধরনের রাজনীতি চলছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তিনি (ফখরুল ইসলাম) ঠিকই বলেছেন, চলমান রাজনীতির দুটি ধারা। একটি একাত্তরের চেতনার রাজনীতি অপরটি সাতচল্লিশের চেতনা। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রা, অপরদিকে সাম্প্রদায়িক ভাবধারায় দেশকে পেছনের দিকে টেনে নেওয়ার অপচেষ্টা। একটি ধারা উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পক্ষে, অপরটি মিথ্যাচার আর নেতিবাচকতার বৃত্তে আবর্তিত। একটির উৎস জনগণ এবং জন আস্থা, অপরটির উৎস বন্দুকের নল।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং উপকমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইইবি’র সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. রনক আহসান। অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। এছাড়া অ্যাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকৌশলী আবু হাসান মাসুদ।
