বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ২৫৮ টন পেঁয়াজের চালান নিয়ে দুটি জাহাজ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে ৫৪ টন বন্দর থেকে খালাস হয়েছে। ২০৪ টন পেঁয়াজ নিয়ে খালাসের অপেক্ষায় বহির্নোঙরে অবস্থান করছে আরও একটি জাহাজ। পেঁয়াজ খালাসের বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তারা।
কাস্টমস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কায়েল স্টোরের আমদানি করা দুই কন্টেইনার পেঁয়াজের চালান এসেছে ‘কোটা এনজেরিক’ নামের জাহাজে। কন্টেইনার দুটিতে পেঁয়াজের পরিমাণ ৫৪ টন। মিয়ানমারে উৎপাদিত এসব পেঁয়াজ রপ্তানি করে ইন্দোসুয়েজ ট্রেজিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বুলবুল দেশ রূপান্তরকে জানান, কায়েল স্টোরের আমদানি করা পেঁয়াজগুলো গতকাল বন্দর থেকে খালাস হয়েছে। পেঁয়াজের আরও কয়েকটি চালান বন্দরের পথে রয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, সাত কন্টেইনার পেঁয়াজের চালান নিয়ে আরও একটি জাহাজ বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে রয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নামে আসা মোট ২০৪ টন পেঁয়াজ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার সজীব এন্টারপ্রাইজ আমদানি করেছে ৮৮ টন ও চট্টগ্রামের গ্রিড ট্রেড আমদানি করেছে ১১৬ টন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাংকর ট্রেডিং কোম্পানি ও পাকিস্তানের আল ফিরদৌসি নামের রপ্তানিকারকের পাঠানো এসব পেঁয়াজ নিয়ে এসেছে এক্সপ্রেস লটসি নামের একটি জাহাজ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারত থেকে আমদানি কমে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট সংকট কাটাতে বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজের চালান আনছে। কয়েকটি চালান ইতিমধ্যে খালাস হয়েছে। তিনি বলেন, আমদানি করা পেঁয়াজ খালাসের বিষয়টিকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাই এসব পেঁয়াজ দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ১২টি থেকে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৪ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য ইতিমধ্যে আমদানিকারকরা ৩২২টি আইপি (আমদানি অনুমতিপত্র) নিয়েছে। যেসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির আইপি নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে চীন, মিসর, তুরস্ক, মিয়ানমার, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ভারত ও পাকিস্তান।
ভারত থেকে রপ্তানি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কারণে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। ৩০ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজের দাম উঠে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এ পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবিলায় সরকার টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে ৩০ টাকা দামে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা।
বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের চালান আসা শুরু হওয়ায় বাজারে দাম কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকায় যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল তা এখন কেটে যাবে।
