করোনার সংক্রমণের চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল থেকে হোয়াইট হাউজে ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে তিনি তিন দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। নির্বাচনী প্রচারে ফেরার তাগিদ থেকেই প্রেসিডেন্ট হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গত সোমবার রাতে প্রেসিডেন্টের জন্য ব্যবহৃত মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে করে হোয়াইট হাউজে ফিরেছেন তিনি। এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, খুব ভালো অনুভব করছি। তিনি আরও বলেন, ‘কভিড নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের জীবন এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেবেন না।’ সোমবার সন্ধ্যায় নীল রঙের স্যুট, টাই এবং মাস্ক পরে ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার থেকে বেরিয়ে আসেন ট্রাম্প। তিনি বারবার হাত মুষ্টিবদ্ধ করছিলেন এবং খুলছিলেন। সে সময় এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, প্রেসিডেন্ট আপনি কি একজন সুপার সংক্রমণ বিস্তারকারী? সে প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি বলেন, সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। হাসপাতাল ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, আমরা খুব শিগগিরই নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরব। ভুয়া খবরে ভুয়া জরিপ দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প হাসপাতাল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার আগে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক সিন কোনলি জানান, অবস্থার উন্নতি অব্যাহত থাকলেও প্রেসিডেন্টকে এখনো ‘বিপদমুক্ত’ বলা যাচ্ছে না। তারপরও হাসপাতাল থেকে হোয়াইট হাউজে ফেরেন তিনি। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ওই ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি সেটাই করেছেন যা কাজে ফিরতে হলে অন্য যেকোনো নেতারই করা উচিত। তিনি বলেন, ‘জানি ঝুঁকি আছে, বিপদ আছে কিন্তু সেসব থাক, আমি এখন আরও ভালো আছি আর হয়তো প্রতিরোধ ক্ষমতাও অর্জন করে ফেলেছি, তবে এখনো জানি না।’
এদিকে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ট্রাম্পকে কী কী বিশেষ ওষুধ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সোমবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন। প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞের বরাতে বলা হয়েছে, এই গ্রহে একমাত্র করোনা রোগী হিসেবে ট্রাম্পই কেবল সেরে ওঠার জন্য বিশেষ ওষুধের মিশ্রণ পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তির আগে ট্রাম্পকে রেজেনেরন ফার্মাসিউটিক্যালের একটি পরীক্ষামূলক অ্যান্টিবডি থেরাপি দেওয়া হয়। এটি করোনাভাইরাসের মাত্রা কমাতে পারে। তা ছাড়া ট্রায়ালে এই থেরাপির ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এখন পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে এই থেরাপি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। কোম্পানিটির ভাষ্য, ট্রাম্পের চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবহারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই ওষুধ সরবরাহ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিক জানিয়েছে, অধিকাংশ মানুষের এই ওষুধ এভাবে পাওয়ার সুযোগ নেই। এটি পাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি ও চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া। তবে ট্রাম্প অ্যান্টিবডি থেরাপিটি পেয়েছেন। করোনা শনাক্ত হওয়ার পরদিনই তাকে তা দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউজ ও ট্রাম্পের চিকিৎসকরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মহামারী বিশেষজ্ঞ ডা. সীমা ইয়াসমিন উল্লেখ বলেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অসুস্থতার ব্যাপার। এ জন্য তা ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার আমেরিকান করোনায় মারা গেছেন। তারা এই ধরনের চিকিৎসা বা ওষুধ পাননি। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালে এখনো হাজার হাজার আমেরিকান চিকিৎসাধীন। তারাও এই চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
ট্রাম্পকে অ্যান্টিবডি থেরাপির পাশাপাশি রেমডেসিভির ও ডেক্সামেথাসোনও দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই তিনটি ওষুধের ব্যবহার প্রসঙ্গে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মেডিসিনের অধ্যাপক জনাথন রেইনার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) সম্ভবত এই গ্রহের একমাত্র রোগী, যিনি এই বিশেষ ওষুধগুলোর মিশ্রণটি পেয়েছেন।’
ওয়ার্ল্ডমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৭৬ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২ লাখ ১৫ হাজার ২৩ জন। এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু সংক্রমণই নয়, মৃত্যুর দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের ধারেকাছে নেই কোনো দেশ। করোনায় দেশের এমন বিপর্যয় এবং নিজেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরও এই পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বরং তার কাছে আসন্ন নির্বাচনই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
