অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার আগে খোলা এলসিগুলোর বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে আজ (শনিবার) সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে দেশটির ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি পেঁয়াজ আমদানিকারকদের জানিয়েছেন। জানা গেছে, বন্ধের আগে হিলিসহ দেশের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে আমদানির জন্য খোলা এলসির পেঁয়াজের পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার টন।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোজাম হোসেন বলেন, ভারতীয় রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাদের দেশের আদালতে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে করা একটি রিটের ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত বাণিজ্য মহাপরিচালক বিজয় কুমার স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের আগে যেসব এলসি খোলা হয়েছে, তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে ও ট্রানজিশনাল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রপ্তানিকারকদের অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য সব এলসির কপি ৭ অক্টোবরের মধ্যে দেশটির আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা প্রদানের জন্য বলা হয়েছিল। সেই মোতাবেক তারা এলসিগুলোর কপি জমা দেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে সেসব এলসির কপিগুলো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা হয়েছে। মোজাম হোসেন আরও বলেন, শুক্রবার দিল্লিতে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবেÑকোন কোন এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ রপ্তানি করা হবে এবং কী পরিমাণ পেঁয়াজ রপ্তানি হবে। সিদ্ধান্ত আসার পর বোঝা যাবে বন্দর দিয়ে কবে নাগাদ দেশে পেঁয়াজ প্রবেশ করবে। সেই সঙ্গে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু করলে দেশের বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে যে অস্থিরতা সেটিও কমে আসবে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই কোনো কিছু না জানিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ভারত। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তের ওপারে ২৫০ পেঁয়াজবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য যে এলসি দেওয়া হয়েছিল তার কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয় দেশটি। পাঁচ দিন বন্ধের পর ১৯ সেপ্টেম্বর ১১টি ট্রাকে ২৪৬ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করে ভারত। রপ্তানিকৃত পেঁয়াজের বেশিরভাগই নষ্ট হওয়ায় অনেক পেঁয়াজ ফেলে দিতে হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
