রিকশা থেকে নামিয়ে গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ০২:২১ এএম

চট্টগ্রামে বাসায় ফেরার পথে এক গৃহবধূকে (২২)  রিকশা থেকে নামিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানার মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। ওসিসি থেকে পুলিশকে জানানোর পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে যশোরে এক তরুণী তাকে বাসের মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও মারপিটের অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা সবাই পরিবহন শ্রমিক।

চট্টগ্রামে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত পটিয়া উপজেলা ও নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), ইউসুফ (৩২), দেবু বড়ুয়া ওরফে জোবায়ের হোসেন (৩১), রিন্টু দত্ত ওরফে বিপ্লব (৩০), রিপন (২৭), সুজন (২৪), সাহেদ (২৪) ও মনোয়ারা বেগম (৫৫)। এর মধ্যে প্রথম চারজন অটোরিকশা চালক।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক জানান, ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে নগরীতে এসেছিলেন বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে রিকশা নিয়ে নিজ বাসায় যাওয়ার পথে কয়েকজন অটোরিকশায় করে তার পিছু নেয়। মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় এলে গৃহবধূকে বহনকারী রিকশার গতিরোধ করে তারা তাকে ধরে একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে বেশ কয়েকজন মিলে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই গৃহবধূকে অভিযুক্তরা মারধর করে সঙ্গে থাকা ২ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। পরে ওই নারী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) গিয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ভোরে পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। জাহাঙ্গীরকে পটিয়া উপজেলা থেকে এবং অন্যদের নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

গ্রেপ্তার মরিয়ম বেগমকে অভিযুক্তদের সহায়তার কারণে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা বিজয়।

ধর্ষণের ঘটনায় নগরীর চান্দগাঁও থানায় গ্রেপ্তার আটজনসহ অজ্ঞাত পরিচয় বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন গৃহবধূ।

যশোরে বাসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ : যশোরে এক তরুণী তাকে বাসের মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও মারপিটের অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা সবাই বাস শ্রমিক।

তরুণীর অভিযোগ, রাতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে বাসের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করেছে তার পূর্বপরিচিত এক বাসের হেলপার এবং ধর্ষণচেষ্টা ও মারপিট করেছে আরও ছয় বাস শ্রমিক।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসনীম আলম বলেন, ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে যশোর শহরের মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ একটি বাসের মধ্য থেকে এক তরুণীকে উদ্ধার ও সাত পরিবহন শ্রমিককে আটক করে। এ সময় ওই তরুণী পুলিশকে জানান, তিনি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী থেকে যশোর শহরে আসেন বাসে করে। রাতে বাড়ি যাওয়ার কোনো উপায় না পেয়ে তিনি তার পূর্বপরিচিত বাস হেলপার মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মনির কৌশলে তাকে শহরের বকচর এলাকার কোল্ড স্টোরেজের কাছে রাখা এম কে পরিবহনের বাসের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর কোমল পানীয় খাইয়ে বাসের মধ্যেই তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় আরও ছয় বাস শ্রমিক সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের মধ্যে তিনজন তাকে ধর্ষণচেষ্টা করে এবং অপর চারজন মারপিট করে।

পরিদর্শক তাসনীম আরও বলেন, ‘তবে স্থানীয়রা ভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, এম কে পরিবহনের ওই বাসটি রাখা ছিল শহরের মণিহার বাসস্ট্যান্ডের কাছে বারান্দিপাড়ায় ঢাকা রোডের পাশে। গভীর রাতে হেলপার মনির এক নারীকে নিয়ে বাসে ওঠে এবং বাসটি চালিয়ে বকচর কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে বাসটি রেখে রিকশায় ওই নারীকে নিয়ে মণিহার সিনেমা হল এলাকায় হোটেলে খায়। এরপর আবার বাসে গিয়ে ওঠে। এ সময় আরও ছয় বাস শ্রমিক তাদের অনুসরণ করে ওই বাসে গিয়ে ওঠে। এ সময় হইচই হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত