নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘কিশোর গ্যাং’য়ের দুইপক্ষের সংঘর্ষে শাকিল হোসেন নাঈম (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ফতুল্লার ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছে আরও একজন। নাঈম জামালপুর সদরের বায়রা পলাশতলা গ্রামের মৃত খলিল মিয়ার ছেলে। সে পূর্ব ইসদাইরের রসুলবাগ এলাকায় মা ও তিন বোনের সঙ্গে থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত। এ ঘটনায় হৃদয় ও হাবিব নামে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, নাঈমকে খুনের ঘটনায় তার মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হৃদয়, হাবিব, আলামিন, সাঈদ ও সালামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি হৃদয় ও হাবিবকে শুক্রবার রাতে ঘটনার সময়ই আটক করা হয়। পরে তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে গ্রেপ্তার হৃদয় নাঈম ও তার বন্ধু লিমনকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন। নাঈমের মা নাজমা দেশ রূপান্তরকে জানান, সন্ধ্যার পর মোবাইলে কোনো এক বন্ধুর কল পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় নাঈম। ফোন ঘরে চার্জে রেখে যায় সে। এরপর রাত ১০টার পর তার মোবাইলে একটা কল আসে। সেই কল রিসিভ করে হইচই শুনতে পান তিনি। কয়েক সেকেন্ড পরই কলটি কেটে যায়। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন ছেলে ছুরিকাহত হয়ে হাসপাতালে। সেখানেই তার ছেলে মারা যায়। কাঁদতে কাঁদতে নাজমা বলেন, ‘কেমনে কী হইছে কিচ্ছু জানি না। দুইডা কথাও শুনতে পারি নাই পোলার মুখে।’
কিশোর গ্যাংয়ের ১১ সদস্য আটক : ফতুল্লা মডেল থানার চাঁনমারী মাউরাপট্টি সেকশন মাঠ এলাকায় শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে ত্রাস ও জনমনে ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের ১১ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। গতকাল বিকেলে র্যাব-১১-এর সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সুমিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।
আটকরা হলো মো. রাসেল মিয়া ওরফে রাসেল (১৮), মো. জালাল (১৮), মো. আমিনুল ইসলাম (২৩), মো. জনি ওরফে শফিকুল ইসলাম (১৮), মো. জাকির হোসেন ওরফে জাকির (১৮), মো. আনোয়ার (১৮), মো. জুয়েল রানা (২২), মো. আবু নাঈম (১৮), মো. ফেরদৌস ইসলাম (১৮), মো. আবদুল্লাহ ওরফে শুভ (২৪), মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শান্ত (১৮)।
