ক্লাসিকোর আগে হার রিয়াল-বার্সার

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৯ এএম

আগামী শনিবার মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো। কোথায় দু’দলের ফর্ম তুঙ্গে থাকবে, একে অপরকে উড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতায় থাকবে; তা না, দু’দলই হেরে বসেছে। শনিবার রাতে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। রিয়াল হেরেছে ১৫ বছর পর লা লিগায় ফেরা কাদিজের কাছে। আর বার্সেলোনার হার গেতাফের কাছে। দুই ম্যাচেরই ফল ১-০। এ নিয়ে এল ক্লাসিকোর আগে নিজে নিজ ম্যাচে রিয়াল ও বার্সা একইসঙ্গে ১৭ বছর পর হারল। শেষবার এমন ঘটেছিল ২০০৩ সালে। কাকতালীয়ভাবে সেবারের ম্যাচের ফলও ছিল একই রকম; রিয়াল হেরেছিল রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে ৪-২ গোলে। আর বার্সা দেপোর্তিভোর কাছে। ফলাফলে যখন মিল তাহলে সেবারের মতো এবারের এল ক্লাসিকোর ফলেও কি মিল হবে? সেটা এখনই বলা যাবে না। তবে যদি কাকতালীয় কিছু হয়েই যায় তবে জানিয়ে রাখা ভালো ওই এল ক্লাসিকোতে ১-১ গোলে ড্র করে দু’দল।

ব্যর্থতার রাতে দুই স্প্যানিশ জায়ান্টই ভুগেছে ফর্মহীনতায়। আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রথম ম্যাচ বলেই জড়তাটা স্পষ্ট। কাদিজের জালে পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট নিতে সক্ষম হয় রিয়াল। আর একটি নয়, একাধিক গোল হজমের অবস্থা ছিল জিনেদিন জিদানের দলের। তবুও ১৬ মিনিটে অ্যান্তোনিও লোজানোর গোলে দারুণ কীর্তি গড়েছে কাদিজ। রিয়ালের বিপক্ষে ২৯ বছর পর জয়ের দেখা পায় দলটি।

এদিকে, বার্সা গেতাফের কাছে হারল ২০১১ সালের পর প্রথম। আর নতুন কোম্যানের অধীনে এই প্রথম হার কাতালানদের। রিয়ালের চেয়ে তাদের অবস্থা খুব ভালো ছিল তা বলা যাবে না। লিওনেল মেসি নিষ্প্রভ থাকায় পুরো দলই জমে যায় যেন। ৫৬ মিনিটে জেমি মাতা গেতাফেকে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে দিলে সমতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় বার্সা। অবশ্য মেসি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্য পাশে ছিল না তার। প্রথমার্ধে তার একটি শটে বল বারে লেগে ফেরে। আবার ইনজুরি সময়ে আরেকটি গোলের সুযোগ পেয়েও বল জালের বাইরে মারেন ৬ বারের বর্ষসেরা তারকা।

বার্সার হারের চেয়ে আলোচনায় চলে এসেছে অন্য বিতর্ক। পেছনে থাকা মেসিকে কনুই দিয়ে গুঁতো মেরেছিলেন অ্যালান নিওম। এই ক্যামেরুনিয়ান ফুটবলারের তখনই কমপক্ষে হলুদ কার্ড পাওয়ার কথা। কিন্তু রেফারি কিছুই দেখাননি। যা মোটেও ভালো লাগেনি কোম্যানের। অভিযোগও করছিলেন। সম্ভবত তা দেখে নিওম কোম্যানকে কিছু বলেন। ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে ডাচ কোচ বলেন, ‘আমি ওদের কোচকে বিষয়টি বলেছি যে তোমাদের ১২ নম্বর ছেলেটি আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে এবং এমন শব্দ বলেছে যা মুখে আনা যায় না। কিন্তু সে বলল, এমনটা সে মনে করে না। আমি এখানে (ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন) ফুটবল নিয়ে কথা বলতে এসেছি, বিতর্ক নিয়ে নয়। তাই আর কিছু বলব না।’ তবে বিতর্ক নিয়ে কথা বলতেই হলো কোম্যানকে। কারণ গেতাফের পাওয়া পেনাল্টি নিয়েও অভিযোগ করেছেন তিনি, ‘ওদের যে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে আমি মনে করি তা ওরা আদায় করে নিয়েছে। মনেই হয়েছিল ওরা আমাদের ডি বক্সে এমন কিছুর সন্ধান করছিল। আর রেফারি মনে হয় আমাদের বিপক্ষে ছিল। কারণ সে জানত যে রিয়াল হেরেছে। তাই সে ভিএআর ব্যবহার করেনি। আমার তো মনে হয় এই ম্যাচে ভিএআর ছিলই না।’

এ ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ছিল মেসিকে। কিন্তু সেরা একাদশে তো বটেই পুরো ম্যাচ খেলেছেন আর্জেন্টিনা তারকা। এ ব্যাপারে কোম্যান বলেন, ‘বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের পর মেসির সঙ্গে আমার হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। আমি দেখেছি আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের খেলার সময় শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। আমি ওকে জিজ্ঞাস করলাম সে ফিরেই খেলতে পারবে কি না। সে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কারণ সে বছরের পর বছর এমনটা করেই অভ্যস্ত। তাই এ ম্যাচে খেলেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত