এএসপি আনিসুল হত্যায় রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তারের জের

মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বিক্ষোভ

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩৪ এএম

সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিমকে হত্যার ঘটনায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গতকাল বুধবার সকালে বিক্ষোভ শুরুর পর তারা হাসপাতালের পরিচালককে নিজ কক্ষে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করেন।

এছাড়া সকাল ১০টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে দুপুর ১টার দিকে আবারও বহির্বিভাগে রোগী দেখা শুরু করেন চিকিৎসকরা।

এদিকে ডা. মামুনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। গতকাল বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

গত ৯ নভেম্বর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসার নামে সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা ফয়েজ উদ্দিন। গত মঙ্গলবার ডা. মামুনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

পুলিশ বলছে, আনিসুল করিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে ডা. মামুনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ডা. মামুনের পরামর্শেই আনিসুলকে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে রোগী পাঠানোর জন্য তিনি কমিশন পেতেন।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই একজন সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমাদের কোনো কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে আগে আমাকে জানানোর কথা। কিন্তু আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। মামুন হাসপাতালের ডরমিটরিতে থাকতেন। তাকে ভোর ৪টার সময় “উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার” খবর পেয়ে বিষয়টি আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানিয়েছিলাম।’

ডা. মামুনের মুক্তি দাবি বিএমএ’র : ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা অযৌক্তিক উল্লেখ করে বিএমএ’র বিবৃতিতে বলা হয়, যে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করা হয়েছিল সেখানে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. মামুন ওই রোগীকে দেখেননি। আদালতের নির্দেশনা ব্যতিরেকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে একজন সরকারি চিকিৎসক কর্মকর্তাকে এভাবে গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আনিসুল করিম মানসিকভাবে উত্তেজিত অবস্থায় গত ৯ নভেম্বর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য আসেন। কর্মরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা প্রদান শেষে অবজারভেশনে রাখেন এবং পরবর্তী সময়ে আবাসিক সাইক্রিয়াটিকের (সহকারী অধ্যাপক) দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু রোগীর আত্মীয়স্বজন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি না করে নিজ দায়িত্বে রোগীকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে তারা তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত