মিউচুয়াল ফান্ডে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:১৫ এএম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে। বিদ্যমান মার্জিন ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট ক্রয়ে ঋণসুবিধা দেওয়া যাবে। গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। সম্প্রতি মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট ক্রয়ে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে গতকাল এসইসি থেকে তা স্পষ্ট করা হয়।

মার্জিন বিষয়ে এসইসির স্পষ্টীকরণের ফলে এখন থেকে অন্যান্য সিকিউরিটিজের মতো মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট ক্রয়ে ঋণসুবিধা পাওয়া যাবে। মার্জিন রুলের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসারে যেসব মিউচুয়াল ফান্ডের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৪০ পর্যন্ত রয়েছে, সেসব ফান্ডের ইউনিট ক্রয়ে ১ অনুপাত শূন্য ৫ হারে মার্জিন ঋণসুবিধা পাওয়া যাবে। এসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে কি যাবে না, এ নিয়ে সম্প্রতি বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) জানতে চাইলে তারা এসইসির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, মিউচুয়াল ফান্ড নন-মার্জিন সিকিউরিটিজ। এমন তথ্য পাওয়ার পর গত সপ্তাহ থেকে অনেক প্রতিষ্ঠান মিউচুয়াল ফান্ডে মার্জিন ঋণ প্রদান বন্ধ করে দেয়। যদিও এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের হঠাৎ দরপতন শুরু হয়। এ সময় পাঁচ মিউচুয়াল ফান্ড নিয়ে এসইসির তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দরপতন ত্বরান্বিত করে। গত পাঁচ কার্যদিবসে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বাজার মূলধন প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায়। মূলত ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মার্জিন ঋণ নিয়ে এসইসির জারি করা ছয়টি নির্দেশনা সামনে আসায় বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর মিউচুয়াল ফান্ডে মার্জিন ঋণসংক্রান্ত নির্দেশনায় তাৎক্ষণিকভাবে সব তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এটি ছিল এ সংক্রান্ত প্রথম নির্দেশনা। ওই সময় মিউচুয়াল ফান্ডের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি এবং প্লেসমেন্ট বাণিজ্য ঠেকাতে ওই নির্দেশনাটি জারি হয়েছিল।

তবে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না এমন নির্দেশনাটি জারির মাত্র পৌনে দুই মাস পর ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর জারি করা দ্বিতীয় নির্দেশনায় মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর ইউনিটপ্রতি সম্পদ মূল্যের (এনএভি) সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি হলে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না মর্মে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। অর্থাৎ যেসব ফান্ডের বাজারদর এনএভির সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে, সেগুলোকে মার্জিনযোগ্য করা হয়। এর আড়াই মাস পর ২০১০ সালের ৭ মার্চ তৃতীয় নির্দেশনায় মার্জিন ঋণসুবিধা বাড়িয়ে এনএভির ১৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ওই বছরের ৩০ আগস্ট চতুর্থ নির্দেশনায় এনএভির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করা হয়।

২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধস নামার পর ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর এসইসি এ সংক্রান্ত পঞ্চম নির্দেশনায় মিউচুয়াল ফান্ডকে মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটিজ গণ্য করে জারি করা তিনটি নির্দেশনাই বাতিল করে। ফলে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনাটি পুনরায় কার্যকর হয়, অর্থাৎ সব ফান্ড মার্জিন অযোগ্য হয়। কিন্তু পরের দিনই ৩০ ডিসেম্বর ২০১০ সালে পুনরায় এবং এ সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা জারি করে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবরের নির্দেশনাটিও বাতিল করে এসইসি।

সর্বশেষ নির্দেশনাটি জারির প্রায় ১০ বছর পর গত সপ্তাহে মিউচুয়াল ফান্ড মার্জিন যোগ্য কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। গতকাল প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভ্রান্তি দূর করে এসইসি জানিয়েছে যে ২৬ অক্টোবর, ২০০৯-এর আগে স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সব মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে মার্জিন ঋণ প্রদানের সুবিধা ছিল। পরে ২৬ অক্টোবর ২০০৯ সালের নির্দেশনার মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে ঋণসুবিধা বন্ধ করা হয়, যা পরে বাতিল করা হয়। ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর ওই নির্দেশনাটি বাতিলের ফলে আগের মতো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সব মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে মার্জিন ঋণ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত