আট বছরের নিঃসঙ্গতার পর কাভানের মুক্তি

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫২ এএম

পাকিস্তানের কুখ্যাত একটি চিড়িয়াখানায় আট বছর ধরে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছিল এশিয়ান প্রজাতির একটি পুরুষ হাতি। তার মুক্তির জন্য কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবাদীরা। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৩৬ বছর বয়সে জীবনে প্রথমবারের মতো মুক্তির স্বাদ পেতে যাচ্ছে কাভান। তিনটি মাদি হাতিসহ কম্বোডিয়ার একটি অভয়ারণ্যই এখন তার ঠিকানা। লিখেছেন পরাগ মাঝি

ইসলামাবাদের মারঘাজার চিড়িয়াখানা

এত দিন কাভানকেই বিবেচনা করা হতো পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ হাতি হিসেবে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মারঘাজার চিড়িয়াখানায় ৩৫ বছর ধরে বসবাস করেছে এশিয়ান প্রজাতির এই পুরুষ হাতিটি। মারঘাজার চিড়িয়াখানায় দীর্ঘ ২২ বছর কাভানকে সঙ্গ দিয়েছে সোহেলি নামে আরেকটি মাদি হাতি। কিন্তু ২০১২ সালে মৃত্যু হয় সোহেলির। এর পর থেকেই পুরোপুরি নিঃসঙ্গ হয়ে যায় কাভান।

কাভানের জন্ম ১৯৮৫ সালে শ্রীলঙ্কায়। পরে তাকে উপহার হিসেবে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কাভান যখন পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখে, তখন তার মাত্র এক বছর বয়স। কাভানের চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট ছিল সোহেলি। ১৯৯০ সালে ইসলামাবাদের চিড়িয়াখানায় সোহেলির জন্মের পর থেকেই কাভান ছিল তার সুখ-দুঃখের সাথি। কিন্তু আট বছর আগে সোহেলির মৃত্যুর পর থেকেই কাভানের জীবনে নানা রকমের জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে। উদাসীনতা ভর করে তার মাঝে। চিড়িয়াখানার চিকিৎসকরা জানান, হাতিটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এমনকি কাভানের মধ্যে কিছু মানসিক সমস্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।

কাভানই ছিল পাকিস্তানে থাকা সর্বশেষ এশিয়ান প্রজাতির হাতি। তার মুক্তির মধ্য দিয়ে চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদের মারঘাজার চিড়িয়াখানা। নোংরা পরিবেশ আর অব্যবস্থাপনার জন্য ইসলামাবাদের মারঘাজার চিড়িয়াখানা কুখ্যাত। নেতিবাচক কারণে বহুবার এই চিড়িয়াখানা খবরের শিরোনাম হয়েছে। গত জুলাই মাসেই চিড়িয়াখানাটির ভেতরে ধোঁয়ার কারণে দম আটকে মারা যায় দুটি সিংহ। গত কয়েক বছরে এই চিড়িয়াখানা থেকে অন্তত ৫০০ পশু নিখোঁজ হয়ে গেছে। আর জরাজীর্ণ পরিবেশে রোগে-শোকে ভুগে প্রাণ হারিয়েছে দুই ডজনেরও বেশি প্রাণী।

কাভান ছাড়াও মারঘাজার চিড়িয়াখানা থেকে আরও অন্তত ৩০টি প্রাণীকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে বন্য প্রাণী সুরক্ষার জন্য নিবেদিত যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংগঠন ‘ফোর পাজ ইন্টারন্যাশনাল’। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে কাভানের মুক্তি প্রসঙ্গ। কাভানের মুক্তির পর বর্তমানে এই চিড়িয়াখানায় একটি হরিণ, একটি বানর ও দুটি ভালুক রয়েছে। ভালুক দুটিকে শিগগিরই প্রিন্সেস আলিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় জর্ডানে নিয়ে যাওয়া হবে। জর্ডানের প্রয়াত বাদশা হোসেইনের বড় কন্যা প্রিন্সেস আলিয়া।

মুক্তির মাহেন্দ্রক্ষণ

সোহেলির মৃত্যুর পর অনেকেই কাভানকে মুক্ত করে দেওয়ার দাবি তোলেন। ২০১৫ সালে সমর খান নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাভানের মুক্তির জন্য প্রচারণা এবং অনলাইনে স্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেন। এভাবেই কাভানের মুক্তির দাবিতে একাত্ম হয় অসংখ্য মানুষ। এমনকি পাকিস্তানের বাইরেও কাভানের মুক্তির জন্য আওয়াজ ওঠে। বিশ^জুড়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে তার ‘নিঃসঙ্গতা’। এই নিঃসঙ্গতা ঘোচাতে পাকিস্তানের আদালতে একটি পিটিশনও দায়ের করা হয়।

দীর্ঘ কয়েক বছরের চেষ্টার পর অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। চলতি বছরের ২১ মে ইসলামাবাদের উচ্চ আদালত কাভানের মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেয়ে গত ২৯ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে কম্বোডিয়ার একটি অভয়ারণ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে কাভান। পাকিস্তান থেকে একটি রাশিয়ান কার্গো বিমানে করে তাকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কাভানের ওজন ৫ টনেরও বেশি। আর উচ্চতা ৩ মিটারের কিছু ওপরে। পাকিস্তান থেকে কম্বোডিয়ার পথে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পরিবহন সুবিধার জন্য একটি বিশেষ খাঁচাও প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু এই খাঁচার ভেতরে কিছুতেই প্রবেশ করতে চাইছিল না কাভান। তাই কয়েক মাস আগেই তার মুক্তির সনদ পাওয়া গেলেও তাকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এ জন্য কাভানকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পাওয়া ‘ফোর পাজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর কর্মীরা প্রথমে হাতিটির সঙ্গে ভাব জমানো এবং বিশ^াস অর্জন করতে শুরু করেন। খাঁচার ভেতরে নিরাপদে প্রবেশ করানোর জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা কাভানকে বিশেষ কয়েকটি প্রশিক্ষণ দেন। পরে খাঁচায় ঢুকিয়ে কার্গো বিমানে করে কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পথে কাভানকে সঙ্গ দেয় ওই সংগঠনেরই পশু চিকিৎসকদের একটি দল। যাত্রাপথেই প্রায় ২০০ কেজি খাবার খেয়েছে কাভান।

যাত্রাপথে কাভানকে সঙ্গ দেওয়া চিকিৎসক দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন মিসরের ডক্টর আমির খলিল। তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে আমার সঙ্গে প্রতিদিনই দেখা হয়েছে কাভানের। এ সময় তার সঙ্গে আমি অনেক কথা বলেছি, ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার গান শুনিয়েছি। অনেকেই ব্যাপারটিকে অযৌক্তিক মনে করতে পারেন। কিন্তু এভাবেই আমি তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেছি। তাই তার যাত্রাপথেও আমি তাকে সঙ্গ দিচ্ছি।’

খলিল আরও বলেন, ‘হাতি হলো জঙ্গলের দূত। তাই তাদের এই মর্যাদা উপভোগ করার অধিকার রয়েছে।’

অপেক্ষায় তিন মাদি হাতি

কম্বোডিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ‘ক্লুয়েন প্রমতেপ’ বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে নিয়ে যাওয়া হয় কাভানকে। এ অভয়ারণ্যটির আয়তন প্রায় ২৫ হাজার একর। দীর্ঘ বছর ধরে নিঃসঙ্গ থাকা কাভানকে এবার সঙ্গ দেবে অভয়ারণ্যে থাকা তিনটি এশিয়ান প্রজাতির মাদি হাতি। হৃদয়স্পর্শী একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অভয়ারণ্যে পৌঁছে সেখানে থাকা একটি মাদি হাতির মুখোমুখি হয়েছে কাভান। একটি বেষ্টনীর দুই পাশে অবস্থান করে একে অপরের শুঁড়ের সঙ্গে শুঁড় মিলিয়ে ভাব জমানোর চেষ্টা করে তারা।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নতুন বাসস্থানে খুব সাবলীল কাভান। নিঃসঙ্গতা ঘুচে যাওয়ার ব্যপারটি ভালো করেই বুঝতে পেরেছে হাতিটি। অভয়ারণ্যের একটি নির্ধারিত অংশে কিছুদিনের জন্য আইসোলেশনে রাখা হয়েছে তাকে। সেখানে একটি টায়ার নিয়ে খেলাধুলা এবং ধুলোবালির মধ্যে গড়াগড়ি করে আনন্দও প্রকাশ করছে সে।

ফোর পাজ ইন্টারন্যাশনালের মুখপাত্র মার্টিন বাওয়ার বলেন, ‘আট বছর পর নিজ গোত্রের আরেকটি হাতির সঙ্গে দেখা হওয়া নিঃসন্দেহে কাভানের জন্য অনেক বড় একটি ঘটনা। অভয়ারণ্যে এখন শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাতে পারবে সে। কয়েক দিনের মধ্যেই মূল অভয়ারণ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে তাকে।’

মার্টিন বাওয়ার আরও জানান, কাভানই পৃথিবীর প্রথম হাতি যাকে বিমানে চড়িয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে যাওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে বিমানে করে হাতি নিয়ে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

কম্বোডিয়ান কর্র্তৃপক্ষ আশা করছে, অভয়ারণ্যের মুক্ত পরিবেশে অন্যান্য মাদি হাতির সঙ্গে মিলিত হয়ে শিগগিরই নতুন প্রজন্ম নিয়ে আসবে কাভান।

নিঃসঙ্গতার আট বছর

মারঘাজার চিড়িয়াখানায় সোহেলি মারা যাওয়ার পর থেকেই অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিল কাভান। ফলে ওজন বেড়ে যেতে শুরু করে তার। প্রতিদিন প্রায় আড়াই শ কেজি আখ খেত সে। কাভানের এই খাদ্যাভ্যাসকে অস্বাস্থ্যকর বলে মন্তব্য করেছেন ডক্টর আমির খলিল। তাই কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়ার তিন মাস আগে থেকেই কাভানকে ডায়েট করাতে শুরু করেছিলেন তিনি। তার প্রচেষ্টাতেই তিন মাসে ৪৫০ কেজি ওজন কমে কাভানের।

হাতিরা সাধারণত খুব সামাজিক হয়ে থাকে। একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পছন্দ করে তারা। কিন্তু সোহেলির মৃত্যুর পর পুরোপুরি নিঃসঙ্গ হয়ে গিয়েছিল কাভান। তার নিঃসঙ্গতাকে ‘আট বছরের কোয়ারেন্টাইন’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্টিন বাওয়ার। তিনি বলেন, ‘মহামারীর মধ্যে অনেকেরই ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কাভানকে এভাবে থাকতে হয়েছে টানা আট বছর!’

জানা যায়, মারঘাজার চিড়িয়াখানায় কাভানের সঙ্গী সোহেলি পায়ের মধ্যে ছোট্ট একটি ব্যথা পেয়েছিল। কিন্তু এই ব্যথার কোনো সুচিকিৎসা না হওয়ার কারণে কিছুদিনের মধ্যেই তা তীব্র আকার ধারণ করে এবং পচন ধরে যায়। শেষ পর্যন্ত চিড়িয়াখানার ভেতরেই বিনা চিকিৎসায় মারা যায় সোহেলি। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, মৃত্যুর পর সোহেলির নিথর দেহটি বেশ কয়েক দিন চিড়িয়াখানার ভেতরে কাভানের পাশেই পড়েছিল। পরে পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে চিড়িয়াখানার কর্মীরা এটিকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।

চিড়িয়াখানার ভেতরে বেশিরভাগ সময়ই একটি শেকলে বাঁধা থাকত কাভান। তার বসবাসের জায়গাটির প্রায় চারপাশজুড়ে একটি খাল খনন করা ছিল। বাসস্থানটি এতটাই বাজে পরিস্থিতির মধ্যে ছিল যে মেঝেতে থাকা নানা বস্তু প্রায় সময়ই কাভানের পা ও আঙুলের মধ্যে ক্ষত সৃষ্টি করত।

কাভানের মুক্তি ও শের

কাভানকে পাকিস্তান থেকে বিদায় জানিয়ে কম্বোডিয়ায় গিয়ে যিনি আবারও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি হলেন মার্কিন অভিনেত্রী ও পপতারকা শের। কাভানের মুক্তির জন্য শেরের কয়েক বছরের প্রচেষ্টা অবশেষে সফল পরিণতি পেল। কাভানের মুক্তির জন্য মার্কিন ব্যবসায়ী এরিক মারগোলিস ও ফোর পাজ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে শেরের প্রতিষ্ঠা করা দাতব্য সংস্থা ‘ফ্রি দ্য ওয়াইল্ড’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানি অধিকারকর্মীদের প্রচারণা থেকেই কাভান সম্পর্কে প্রথম জানতে পেরেছিলেন শের। সে সময় ‘হ্যাশট্যাগ সেভ কাভান’ ও ‘হ্যাশট্যাগ ফ্রি কাভান’-এর মতো বেশ কয়েকটি অনলাইন প্রচারণা সারা বিশে^র নজরে এসেছিল। সোহেলির মৃত্যুর পর দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় চিড়িয়াখানার আয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ছিল কাভান। টুইটারে কাভানের দুর্দশার কথা জানতে পেরে পপতারকা শেরের মন কেঁদে ওঠে। এরপরই তিনি কাভানকে মুক্ত করার জন্য কাজ শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই তিনি মার্ক কাউনের সঙ্গে দেখা করেন। কাউন হলেন একটি বৈশি^ক ট্যালেন্ট এজেন্সির বস, বন্য প্রাণীদের প্রতি হৃদয়বান। প্রায় ৩০০ হাতির নিরাপদ আবাসনের জন্য কাজ করেছেন তিনি। তার সঙ্গে দেখা করে কাভানের মুক্তির প্রসঙ্গ টানেন শের। জানিয়ে দেন, যেকোনো মূল্যে তাকে মুক্ত করতে হবে।

কাভানকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার পাকিস্তানে যাতায়াত করেছেন ৭৪ বছর বয়সী পপতারকা শের। শুধু তা-ই নয়, কাভানের মুক্তি ত্বরান্বি^ত করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। কাভানের মুক্তির জন্য প্রায় ৪ লাখ ডলারের একটি তহবিল সংগ্রহ করতেও সক্ষম হন শের। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাভানের মুক্তির আন্দোলনকে আরও বেগবান করেন। এই আন্দোলনের ফল হিসেবে গত মে মাসে ইসলামাবাদের হাইকোর্ট মারঘাজার চিড়িয়াখানা বন্ধ করে সেখানে থাকা প্রাণীদের অবমুক্ত করার জন্য রুল জারি করে। আর জুলাই মাসে কাভানকে পাকিস্তান থেকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় পাকিস্তানের আদালত।

কাভানকে স্বাগত জানাতে পাকিস্তান থেকে কম্বোডিয়ায় গিয়ে উপস্থিত হন শের। কালো মাস্ক পরা শেরের হাতে এ সময় একটি ফুল দেখা যায়। এই ফুল দিয়ে কাভানকে তিনি বরণ করে নেন। এ সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘কাভানকে এখানে নিয়ে আসতে পেরে আমি গর্বিত। এখানে সে সত্যিই সুখী হবে। তার দুর্দশার সময় শেষ হয়ে গেছে।’

কাভানকে স্বাগত জানিয়ে কম্বোডিয়ার উপপরিবেশমন্ত্রী নেথ ফেক্টরা বলেন, ‘কাভানকে গ্রহণ করে কম্বোডিয়া দারুণ খুশি। সে আর পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ হাতি নয়। আমরা আশা করছি, শিগগিরই এই অঞ্চলের হাতিদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সে তার নতুন প্রজন্মের জন্ম দেবে।’

কাভানের মুক্তিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে সেরা মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পপতারকা শের। কম্বোডিয়ার অভয়ারণ্যে থাকা অন্য তিনটি হাতি সম্পর্কে শের বলেন, দীর্ঘ দিন পর তারাও একটি পুরুষ সঙ্গী পেল। শুরুতে অবশ্য তাদের একটু লাজুক মনে হয়েছে। এ অবস্থা শিগগিরই কেটে যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত