হবিগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানকে না পেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে ‘আত্মহত্যা’

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৭ এএম

পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি ফেরাতে চেয়েছিলেন এক যুবক। এর জন্য আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের আপত্তি ও পরে আদালতের নির্দেশে বাবার বাড়িতেই থাকার অনুমতি পান তার স্ত্রী বুশরা বেগম (২৭)। এ ঘটনায় আদালতকক্ষ থেকে বের হয়ে কোর্ট প্রাঙ্গণেই ধারালো ছুরিতে নিজের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করেন হাফিজুর রহমান (৩২) নামে ওই যুবক। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। হাফিজুর হবিগঞ্জ শহরের কামড়াপুর এলাকার নূর মিয়ার ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হাফিজুরের করা একটি মামলায় আট মাসের শিশুসন্তান আরফিনকে কোলে নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন তার স্ত্রী বুশরা। এরপর আদালতে তিনি তার জবানবন্দিতে স্বামীর পরিবর্তে মায়ের সঙ্গে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমিন পাপ্পা বুশরাকে মায়ের সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দেন। এ আদেশ শুনে বাদী হাফিজুর ভেঙে পড়েন। তিনি এজলাসকক্ষ থেকে বেরিয়ে তার শিশুসন্তান আরফিনকে কোলে নিতে চান। কিন্তু স্ত্রী তাতে রাজি হননি। এ সময় হাফিজুর সন্তানকে কোলে না পেলে মরে যাবেন বলেও চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু স্ত্রী এতে সাড়া না দেওয়ায় জনসম্মুখে তিনি একটি ছুরি বের করে নিজের বুকের বামদিকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এরপর সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হবিগঞ্জ সদর থানার এসআই সহিদুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় সদর থানায় একটি জিডি হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হবিগঞ্জ শহরের ডেকোরেটর কর্মচারী হাফিজুরের সঙ্গে ২০১৮ সালে বানিয়াচং উপজেলার কুর্শি খাগাউড়া গ্রামের বুশরা বেগমের বিয়ে হয়। মিনহাজুর রহমান আরফিন নামে তাদের আট মাসের এক ছেলে রয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান বুশরা। এরপর স্বামীর বাড়ি ফিরে না আসায় গত ১৫ অক্টোবর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন হাফিজুর। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার শাশুড়ি ও শ্যালিকারা তাকে স্থায়ীভাবে শ^শুরবাড়িতে বসবাস করার জন্য চাপ দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় বুশরা ও তার ছেলেকে আটকে রাখা হয়। এমতাবস্থায় স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।

এছাড়া একই দিন দুপুরে সিরাজগঞ্জে স্ত্রীর করা একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসে এজলাসে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনেই বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মোক্তার হোসেন (৩৫) নামে এক যুবক। সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে এ ঘটনা ঘটে। মোক্তার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের মিত্রতেঘরি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। পরে তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিরাজগঞ্জ কোর্ট পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত