করোনায়ও বেজায় ৪০৮ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:১৫ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সারা বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য ও ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ নিয়ে এক ধরনের স্থবিরতা চলছে। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, ২০২০ সালের মহামারীর বছরেও সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ৪০৮ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। যদিও বিনিয়োগ প্রস্তাবের বড় অংশই স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের।

চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান নির্ধারণ ও জমির পরিমাণ অনুমোদন দিয়েছে বেজা, যার মধ্যে সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ৬৮টি এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ২৯টি। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে ২টি, জিটুজি অর্থনৈতিক অঞ্চল ৪টি এবং ট্যুরিজম পার্ক রয়েছে ৩টি। ইতিমধ্যে ৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, মহেশখালী, শ্রীহট্ট, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক) ১৭২টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৭ হাজার ৩১৫ একর জমি ইজারা প্রদানে নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৩৯৭ কোটি ডলার।

এছাড়া প্রায় ৩১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়েছে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে। এর ফলে সর্বমোট বিনিয়োগের প্রস্তাবের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৭ কোটি মার্কিন ডলার। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ  লোকের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

দেশে চলতি বছরের ৮ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ শুরু হয়। করোনা সংক্রমণ এড়াতে গত ২৫ মার্চ থেকে সারা দেশে অঘোষিত লকডাউন শুরু, যা টানা ৬৬ দিন বহাল ছিল। মূলত লকডাউন শেষে জুন থেকে বিনিয়োগ প্রস্তাব আসতে শুরু করে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে। বেজা জানিয়েছে, করোনাকালীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা হয়েছে প্রায় ৩১৫ কোটি মার্কিন ডলার, যার বড় অংশই স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এসেছে। এর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব প্রায় ৫৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার এবং স্থানীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর পুরো বছরে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মোট ৪০৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা হয়েছে । 

বেজা জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশের মধ্যে চীন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও সিঙ্গাপুর উল্লেখ্যযোগ্য। আর দেশীয় প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উত্তরা মোটরস, মেট্রো স্পিনিং, ম্যাকসন্স স্পিনিং অ্যান্ড টেক্সটাইলস, সামুদ ফুড প্রডাক্টস, ইফাদ অটোস, রানার্স মোটরস, সাইফ পাওয়ার, এশিয়া কম্পোজিট মিলস, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস, ফার্মাসিউটিক্যালস, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইলস, ইস্পাত, কেমিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, সিরামিকস, খাদ্য ও কৃষি, হোটেল ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতের শিল্প কারখানা গড়ে তুলবে।

এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, করোনাকালীন বিনিয়োগের এমন প্রস্তাব প্রমাণ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বিনিয়োগের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। বর্তমান সরকারের স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের আদর্শ স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিনিয়োগের এ প্রবাহ চলমান থাকলে আগামী বছরে বিনিয়োগকারীদের শিল্পে ব্যবহারে জমি দেওয়া আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর আগামী বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের রাজধানী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বেজা সূত্র জানায়, বেজার আওতায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে অনলাইনে প্রদত্ত  সেবার পরিমাণ ১৬টি যুক্ত হয়ে মোট ৪৮টিতে উন্নীত হয়েছে। এর আগে গত ২২ অক্টোবর ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে ১১টি সেবা অনলাইনে যুক্ত করা হয়। আগামী জানুয়ারির মধ্যে আরও ৬টি সেবা অনলাইনে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে অনলাইনের মাধ্যমে ওএসএস-এর সেবার সংখ্যা হবে ৫৪টি।    

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত