বাসা থেকে অফিসের কাজের হার বাড়বে : আইএলও

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৪১ এএম

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে অফিস বা কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তে বাসা থেকে কর্মীদের কাজ করার হার বেড়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাব অনুযায়ী, করোনা শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী ২৬ কোটি মানুষ বাসা থেকে কাজ করত। আসছে বছরগুলোয় মানুষের বাসা থেকে কাজ করার হার আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। সংস্থাটির প্রাক্কলনে বলা হয়, ২০২০ সালে করোনা শুরুর পর প্রথম মাসে প্রতি পাঁচজনে একজন বাসা থেকে কাজ করেছেন। পরের মাসগুলোয় করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। ফলে পুরো বছরের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে এই হার আরও অনেক বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়ার্ক ফ্রম হোম নিয়ে আইএলওর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘ওয়ার্কিং ফ্রম হোম : ফ্রম ইনভিজিবিলিটি টু ডিসেন্ট ওয়ার্ক’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন গতকাল বুধবার বিশ্বব্যাপী একযোগে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাসা থেকে কাজ করার কারণে কর্মীদের আয় যারা বাইরে ছিল তাদের চেয়ে কমেছে। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের কর্মী ১৩ শতাংশ কম আয় করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২২ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৫ শতাংশ। এর বাইরে উন্নয়নশীল বা অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা দেশগুলোয় এ ব্যবধান অনেক বেশি ছিল। আর্জেন্টিনা, ভারত ও মেক্সিকোর মতো দেশে বাসা থেকে কাজ করা কর্মীদের আয় অন্যদের তুলনায় কমেছে ৫০ শতাংশ। 

এ ছাড়া এ প্রক্রিয়ায় কাজ করা কর্মীদের সার্বিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ নীতিমালারও ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের কর্মী সুরক্ষায় আইএলওর বিদ্যমান নীতিমালা (আইএলও কনভেনশন ১৭৭) বেশিরভাগ সদস্যভুক্ত দেশই স্বাক্ষর করেনি। মাত্র ১০টি দেশ এই নীতিমালায় স্বাক্ষর করেছে।

ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এ প্রক্রিয়ায় কাজ করা শ্রমিক ও কর্মীরা আইনি সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত হয়। এসব কর্মী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করে এবং অন্য কর্মীদের চেয়ে তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ কম থাকে। একই সঙ্গে যৌথ দরাদরির লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকে। আইএলওর হিসাবে, করোনা শুরুর আগে যে ২৬ কোটি কর্মী বাসা থেকে কাজ করতেন, তাদের ৫৬ শতাংশই নারী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত