অটোপাসে এসএসসি এইচএসসির ফল প্রকাশে সংসদে বিল

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৪৮ এএম

করোনাকাল হওয়ায় পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি, এইচএসসি এবং সমমানের ফল প্রকাশে পৃথক তিনটি আইন সংশোধনের প্রস্তাব উঠেছে সংসদে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১ সংসদে উত্থাপন করেন।

পরে ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন বিলটি এক দিনের মধ্যে এবং বাকি দুটি দুদিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে সরকার পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়নের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান শ্রেণির ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ক্ষেত্রে জেএসসি এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে এইচএসসির ফল নির্ধারণ করার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া ফল প্রকাশে আইনগত জটিলতা দেখা দেয়। এ কারণে ডিসেম্বরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এবং মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর তা সংসদে তোলা হলো।

বিল তিনটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে, অতিমারী, মহামারী, দৈব-দুর্বিপাকের কারণে বা সরকার কর্র্তৃক সময় নির্ধারিত কোনো অনিবার্য পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং সনদ করা সম্ভব না হলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা কোনো বিশেষ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করে উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন এবং সনদ প্রদানের জন্য নির্দেশাবলি জারি করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে।’

এদিকে ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১ উত্থাপন নিয়ে সংসদে আপত্তি জানান জাতীয় পার্টির সিনিয়র সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। নিয়ম অনুযায়ী সংসদে উত্থাপনের আগে নোটিস না পাওয়ায় তিনি আপত্তি জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য নিয়েও আপত্তি জানান তিনি।

বিলের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, সংবিধানের ১৭ (ক) ধারায় বলা আছে ‘একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান।’ সেখানে ১২ বছর রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েছে। এখন আপনি পরীক্ষা তুলে দেবেন এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না? ওখানে পরীক্ষার কথা বলা আছে, পদ্ধতির কথা বলা আছে, পরীক্ষা ওঠানোর কথা নেই তাই এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না?

তাছাড়া কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ (ঙ) অনুসরণ না করায় সংসদ সদস্যদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় এই এমপি। তিনি বলেন, এ বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিলের বিরুদ্ধে আমি নই। কিন্তু এখানে কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭-এর (ঙ) অনুসারে যেকোনো বিল তিন দিন আগে পাওয়ার কথা ছিল আমার। কিন্তু আমি তা পাইনি। কালকেও আমি খুঁজেছি, পাইনি। এর জবাবে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আমার অনুমতি সাপেক্ষেই বিলটি এসেছে। কেননা এর কিছু গুরুত্ব আছে। এ তিনটি বিল আমাদের পাস করে দিতে হবে। সেই বিবেচনায় এ বিলগুলোকে আসার সম্মতি দিয়েছি।

আইন পাস হলেই এইচএসসির ফলাফল : সংসদে বিলটি তোলার সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আমাদের প্রস্তুত রয়েছে। বিদ্যমান আইনে যেহেতু রয়েছে পরীক্ষাপূর্বক ফলাফল প্রকাশ করতে হবে কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী কারণে আমরা এবার পরীক্ষা নিতে পারিনি। বিশেষ পদ্ধতিতে ফলাফল দিতে চাচ্ছি। এজন্য আইনটি সংশোধন প্রয়োজন।’ সংসদ থেকে আইনটি পাস করে দিলেই দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত