মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহেরকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কমলাঘাট বন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আবু তাহের মিরকাদিম পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।
পাবনা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শরিফ উদ্দিন প্রধানের নির্বাচনী এজেন্ট আহসান হাবীব আসানকে (৪০) ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।
এছাড়া মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মুন্সীগঞ্জে কাউন্সিলর প্রার্থীকে কুপিয়ে জখম : মিরকাদিম পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবু তাহেরের স্ত্রী জানান, সকালে কমলাঘাট এলাকার শোভন ওয়েল ম্যাটন নামে নিজের কারখানায় ছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী আবু তাহের। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী আওলাদ হোসেন ও তার সমর্থকরা হামলা চালিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। গুরুতর আহত আবু তাহেরকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
আবু তাহেরের ওপর হামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী আওলাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল মোমেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাউন্সিলর প্রার্থী আবু তাহেরের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে মিরকাদিম পৌর নির্বাচন নিয়ে এর আগেও একটি ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়গুলো প্রশাসনের নজরে রয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পাবনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট আ.লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাত : পাবনায় আহত আসানের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনির সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আসান পৌর নির্বাচনে নারিকেলগাছ প্রতীকের (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শরিফ উদ্দিন প্রধান) ৪ নম্বর ওয়ার্ড ভোটকেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট এবং একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহসান হাবীব আসানকে দেখতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ উদ্দিন প্রধান অভিযোগ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল পাবনায় নৌকার জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এরপর সন্ধ্যা থেকে রাধানগর ও শালগাড়ীয়া এলাকার নারিকেলগাছ মার্কার প্রতিটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও কর্মীদের ছুরিকাহত করা হয়। শুক্রবারও তা অব্যাহত রয়েছে।’
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক রওশন আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
আ.লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর প্রচারে হমলা : মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৌরসভার রামনগর এলাকায় প্রচারণাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে চারজন।
আহত খালেক সরদার (৬০), সাগর শিকদার (২৫), এনায়েত বেপারী (২৫) ও রাজিব হোসেন (১৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচার মাইক ও ইজিবাইক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এস এম হানিফ সরদারের সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মিঠুর সমর্থকরা। এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থীর মুঠোফোনে কল দিলে তার এক কর্মী ফোন ধরে বলেন, ‘হানিফ ভাইয়ের কথা বলার সময় নেই।’ এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি মো. নাছিরউদ্দিন মৃধাকে কল দিলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে বলেন, ‘আমি পরে কথা বলব।’
