ভারতের বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকরা আরও জোরালো আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিল্লি ও হরিয়ানার সীমানা সিম্ভুর বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সরকার বন্ধ করার পর জেনারেটর জোগাড় করতে শুরু করেছে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন।
এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার কৃষক আন্দোলন নিয়ে প্রথমবারের মতো অভিমত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংলাপে বসে সমস্যা মিটিয়ে নিতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন।
নয়াদিল্লিস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে যেসব মতভিন্নতা রয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা।’ এতে বলা হয়, ভারতীয় বাজারের সংস্কার ও বেসরকারি লগ্নি আসার প্রক্রিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। তবে বিভিন্ন স্থানে কৃষক বিক্ষোভ ঠেকাতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধে সরকারি পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়। ইন্টারনেট থাকা বাকস্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও গণতন্ত্রের প্রতীক বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানকে ভালো চোখে দেখছে না মোদি সরকার। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘পরবর্তী বড় ধরনের সংঘাত’ এড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ক্যাপিটল হিলের সহিংসতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রউভয়ে প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের দেশ। সুতরাং অভ্যন্তরীণ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্তব্য করার আগে সতর্ক হওয়া দরকার। যদিও যুক্তরাষ্ট্র কৃষি সংস্কারে মোদি সরকারের পদক্ষেপের স্বীকৃতি দিয়েছে।’
কৃষি আইন বাতিলে কৃষকদের আন্দোলন গত ২৬ জানুয়ারি ট্রাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে ভিন্ন মোড় নিয়েছে। ওইদিন দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। নভোরিত সিং নামে এক কৃষক নিহত হন। এরপর থেকে দিল্লি ও হরিয়ানার সীমান্তে কৃষকরা অনশন করছেন। ২৬ জানুয়ারির পর থেকে সরকার ও কৃষকদের মধ্যে কোনো বৈঠক হয়নি।
গতকাল উত্তরপ্রদেশের নিহত কৃষক নভোরিত সিংয়ের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন বিরোধী কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এ সময় তিনি বলেন, ‘নভোরিতের বয়স হয়েছিল ২৫, আমার ছেলের বয়সও ২০। আমি এ পরিবারকে বলতে চাইআপনারা একা নন। সমগ্র দেশবাসী আপনাদের পাশে আছে।’
এদিকে কৃষি আইন নিয়ে মন্তব্যের জেরে পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের বিরুদ্ধে গতকাল মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গ্রেটা থুনবার্গ ‘ফৌজদারি চক্রান্তে যুক্ত এবং ধর্মীয় জিগির তুলে ঘৃণা’ ছড়াচ্ছেন। অবশ্য মামলার খবর পাওয়ার পর থুনবার্গ আরেকটি টুইট করে বলেন, ‘তবু আমি কৃষকদের পাশে থাকব এবং তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সমর্থন করব। কোনো ঘৃণা, হুমকি বা মানবাধিকার লঙ্ঘন আমাকে টলাতে পারবে না।’
