শিক্ষার্থীদের পোশাক বানানো সংক্রান্ত এক মামলায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রতিযোগিতামূলক বাজার মানার আদেশ দিয়েছেন প্রতিযোগিতা কমিশন। শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস সরবরাহে আর কোন প্রতিষ্ঠানকে একচ্ছত্রভাবে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে না দিতেও সতর্ক করা হয়েছে ভিকারুননিসাকে। পাশাপাশি স্কুলড্রেস তৈরির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজকে ৭৯ হাজার ৮৯৭ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির লক্ষ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের করা এক মামলায় বুধবার এ রায় দেয়া হয়।
কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, একক প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে প্রত্যেক ক্যাম্পাসের জন্য ন্যূনতম তিনটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক বানাতে হবে। এই বাছাই কার্যক্রমে দরজির দোকান নির্বাচনের জন্য দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এর আগে স্কুলের পোশাক, রং, নকশা, মনোগ্রাম ও দাম সম্পর্কে অভিভাবকদের জানাতে হবে। এরপর মনোনীত পোশাক নির্বাচিত তিনটি দরজি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিতে হবে।
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ সময়ব্যাপী শিক্ষার্থীদের পোশাক তৈরির একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ দিয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে ওই টেইলার্স থেকে শিক্ষার্থীদের পোশাক বানানো বাধ্যতামূলক ছিল। অন্য কোনো টেইলার্স থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা পোশাক বানাতে পারবে না। যা প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির জন্য অন্তরায় এবং প্রতিযোগিতা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ করেছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে কমিশন আজ এ রায় দিল।
কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে অসম প্রতিযোগিতা কমিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করা এই কমিশনের কাজ। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অসমতা বিষয়ক অভিযোগ এলে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের আরও সচেতন হওয়া দরকার।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মামলার আদেশে বলা হয়েছে, এই মামলায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিযোগিতা আইনের ধারা ১৫-এর উপধারা ১-এর বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। রায়ে মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইব্রাহীম মোল্লাকে ৭৯ হাজার ৮৯৭ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পোশাকের কাপড়, রং, ডিজাইন, মনোগ্রাম, অভিন্ন রাখার উদ্দেশ্যে অভিভাবকদের জানিয়ে নির্ধারিত পোশাকের একটি নমুনা নির্বাচিত দরজির দোকান বা প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড বা নির্ধারিত স্থানে এবং নির্বাচিত দোকানে পোশাকের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে হবে এবং নির্ধারিত মূল্যের পোশাক বিক্রি হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে করতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে।
প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ ছিল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের পোশাক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বানাতে হতো। এটি প্রতিযোগিতামূলক করতে রায় দেয়া হয়েছে। অভিভাবকেরা যাতে তাদের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠান বা জায়গা থেকে পোশাক তৈরি করতে পারেন, সে জন্য এই রায় দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে করা এই মামলাটি ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ডিসেম্বরে প্রতিযোগিতা কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করেছিল।
মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর ১২ থেকে ১৩ হাজার পোশাক বানাতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির কারখানা পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীতে। তবে কোনো কার্যালয় নেই। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১ হাজার ২০০ টাকা এবং উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পোশাকের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা রাখা হয়।
মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম মোল্লার দাবি, ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে দরপত্রের মাধ্যমে তিনি ভিকারুননিসা স্কুলের পোশাক তৈরির কাজ পান। এরপর আর দরপত্র হয়নি। তবে তিনি এই কাজ প্রতিবছর পাচ্ছিলেন।
বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন গঠিত হয়। অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়ন আনাই এর লক্ষ্য।
