ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৩%

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ০৩:৩৯ এএম

জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স সামান্য কমেছে। তবে রেমিট্যান্সে এই নিম্নগতি মূলত গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকে অব্যাহত রয়েছে। করোনা মহামারীর মধ্যেও দেশের অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স প্রবাহে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও গত ৪-৫ মাস ধরে রেমিট্যান্স একটু একটু করে কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৮ কোটি ডলার। এর আগের মাস জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এক মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ১৮ কোটি ডলার।

তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৫ কোটি ডলার। আগের বছরের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ।

এদিকে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৬৮ কোটি ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। যদিও অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার। সেই হিসাবে সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিও কিছুটা কমেছে। তবে করোনা মহামারীর মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে এখনো বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ২৮ দিন। এ কারণে জানুয়ারির তুলনায় রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় রেমিট্যান্স অনেক বেড়েছে।’ সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা চালুর পর থেকেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনায় বিশ্বের অনেক দেশে রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব পড়লেও বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম। সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়াতে উৎসাহ দেখাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৫ কোটি ডলার। নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৭ কোটি ডলার। গত অক্টোবরে ২১০ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২১৫ কোটি ডলার, আগস্টে ১৯৬ কোটি ডলার এবং অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতরা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাদেরও ধারণা, ২ শতাংশ প্রণোদনার কারণেই বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে রেমিট্যান্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ওই অর্থবছর মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স ২ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আগেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

করোনা মহামারীর মধ্যে রেমিট্যান্সের এমন উচ্চ প্রবাহের কারণে দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। গতকাল সোমবার রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৪১২ কোটি ডলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত