ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে ওঠা গবেষণায় প্ল্যাজিয়ারিজম বা কুম্ভীলকবৃত্তি বা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তদন্ত চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাহারের জন্য তিন শিক্ষকের ওপর ‘চাপ’ প্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুম্ভীলকবৃত্তির অভিযোগের তদন্ত চেয়ে ঢাবি উপাচার্যের কাছে আলাদাভাবে আবেদন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তিন শিক্ষক। তারা গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন করে তাদের আবেদনটি তুলে নিতে বলা হচ্ছে। তবে ড. সাদেকা হালিমের ভাষ্য, এ ব্যাপারে তার কিছুই জানা নেই।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশ রূপান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় ‘সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর গত ২ মার্চ অধ্যাপক সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে গবেষণায় কুম্ভীলকবৃত্তির অভিযোগের তদন্ত চেয়ে ঢাবি উপাচার্যের কাছে চিঠি পাঠান রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মোশতাক আহমেদ। এর পরদিন একই আবেদন করেন বেরোবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাজমা আখতার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক খালিদ হাসান।
গতকাল রাবি অধ্যাপক মোশতাক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন ও ডাক্তারদের সংগঠন থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য। এসব বিষয় নিয়ে আমি খুব মানসিক চাপে রয়েছি।’
অভিযোগ প্রত্যাহার করবেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিষয়টির তদন্ত চেয়ে আবেদন করেছি। যত চাপ আসুক আমি অভিযোগ প্রত্যাহার করব না।’
এছাড়া আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেরোবির দুই শিক্ষক নাজমা আখতার ও খালিদ হাসান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি তাদের কাউকে কোনো সময় ফোন করিনি। ব্যক্তিগতভাবেই হোক আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই হোক আমি এদের কাউকে চিনি না। আমার কোনো দিন পরিচয় হয়নি। ওদের যেমন শুভাকাঙ্ক্ষী আছে, সবারই তো কিছু কিছু শুভাকাক্সক্ষী আছে। কার জন্য কে, কী করছে আমি তো জানি না। আমাকে কেউ বলেনি ওনাদের ফোন করা হচ্ছে।’
