বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়কে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুমের সঙ্গে যুক্ত করা ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১’-এর উদ্বোধন আজ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় ফেনী নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুটির উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততার কারণে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তার একটি রেকর্ড করা বার্তা দেখানো হবে ভিডিও কনফারেন্সে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, এ প্রকল্পগুলোর দরুন ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হয়ে যাবে আর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দূরত্ব হবে মাত্র ৮০ কিলোমিটার। ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক নয়া দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি তৈরি করেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনএইচআইডিসিএল। প্রায় ১৩৩ কোটি রুপি খরচে সাড়ে পাঁচ বছরে তৈরি হলো সেতুটি। সেতুর ভারতীয় প্রকৌশলী মতিউর রহমান জানিয়েছেন, গত ১৩ জানুয়ারি সেতুর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়। এ সেতুর মোট পিলার ১২টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে আট ও ভারতের অংশে চারটি। সেতু থেকে ২৪০ মিটার অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করে রামগড়-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কে সঙ্গে এবং ওপারে সেতু থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার অ্যাপ্রোচ রাস্তা নবীনপাড়া-ঠাকুরপল্লী হয়ে সাবরুম-আগরতলা জাতীয় সড়কে যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের দুই লেনের এ সেতুর দুপাশে রয়েছে ফুটওয়ে।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরকালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে রামগড়-সাবরুম স্থলবন্দর চালুর যৌথ সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২০১৫ সালের ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১’ নামে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন।
