যারা অপরাজনীতি করে আমি তাদের সাথে নেই: কাদের মির্জা

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০৩:২৬ এএম

আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাথে থাকব। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সাথে থাকব। কোনো অপরাজনীতির সাথে আমি কাজ করব না।’

বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেইসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

তিনি বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে চাই না। ওনার সাথে আমার দুই বার কথা হয়েছে, কিন্তু দেখা করতে পারিনি।’

কাদের মির্জার দাবি, ‘আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে আমি দায়িত্বে থাকব না। জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে সহ সহসভাপতি পদেও থাকব না। আমি বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র নামে যে প্রতিষ্ঠান আছে, সেখানেই কাজ করব।’

‘কারা জমিদখল, মদ, নারী, জুয়ার আস্তানা করেছে, খবর নেন। যারা টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য করে করে, অপরাজনীতি করে আমি তাদের সাথে রাজনীতি করব না।’

তিনি বলেন, ‘বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির ও আলাউদ্দিনের বিষয়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করলে এটা নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।’

অকারণে কাউকে গ্রেপ্তার, হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাদলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এতেও আমি খুশি না।’

কোম্পানীগঞ্জের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আব্দুল কাদের বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সেলিম সাহেব (খায়রুল আনম সেলিম চৌধুরী) একটা মেরুদণ্ডহীন প্রাণী। তিনি একরাম চৌধুরীকে ভয় পান। তদন্ত করতে হলে কেন্দ্র থেকে কাউকে দিয়ে তদন্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে তদন্ত দল দিলে স্থানীয়ভাবে একরাম চৌধুরী ও নিজাম হাজারীর দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।’

তিনি কোম্পানীগঞ্জে রাজনীতিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি মারা যান।

এরপর মঙ্গলবার উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে রাত ৯টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আলাউদ্দিন নামে যুবলীগের এক কর্মী মারা যান।

যার জেরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মাঝেই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরো পড়ুন:

সাদা পোশাকে তুলে নেয়ার পর গ্রেপ্তার বাদল

কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে মামলা নেয়নি পুলিশ

পৌরসভাকে কাদের মির্জা বাঙ্কার বানিয়ে রেখেছেন: গ্রেপ্তারের আগে বাদল

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত