দেশলাই জ্বালাতেই বিস্ফোরণ

গাজীপুরে বাসায় ঘুমন্ত স্ত্রী-সন্তানসহ যুবক দগ্ধ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ০৭:২০ এএম

গাজীপুরে দেশলাই জ্বালাতে গিয়ে বাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে এক যুবক ও তার ঘুমন্ত স্ত্রী-সন্তান দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল শনিবার ভোরে নগরীর কাশিমপুর ভূইয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ তিনজনকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

বিস্ফোরণে ওই বাসার দেয়াল ধসে পড়েছে এবং দরজা উড়ে গেছে। সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস, নাকি তিতাস গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দগ্ধরা হলেন- গাইবান্ধা সদর উপজেলার চাপাদহ পূর্বপাড়া এলাকার মামুন মিয়া (৩২), তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম (২৮) ও ছেলে সাকিন মাহমুদ (৫)।

জানা গেছে, দগ্ধ সুমন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভূঁইয়াপাড়া এলাকার জাকির হোসেনের বাড়িতে পরিবারসহ ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। গতকাল ভোরে হঠাৎ ওই বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে টিনশেড বাড়িটির রান্নাঘর ও পাশের বসতঘরসহ তিনটি কক্ষের দেয়াল বাইরের দিকে ধসে পড়ে আগুন ধরে যায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা দগ্ধ মামুন ও তার স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাদের ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

দগ্ধ মামুন ডিবিএল গ্রুপের একটি গার্মেন্টসে কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর পদে চাকরি করেন। তার স্ত্রী গৃহিণী আর ছেলে একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে।

দগ্ধ মামুন জানান, রাতে সবাই বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাথরুমের কমোডে বসে কয়েল জ্বালানোর জন্য তিনি দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালাতেই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে বাথরুমের দরজা ভেঙেচুরে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনি ছাড়াও তার স্ত্রী ও সন্তান ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, মামুনের শরীরের ২৮ শতাংশ, তার স্ত্রী মরিয়মের ২৫ ও সাকিনের ৩৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের ৩ জনের অবস্থাই গুরুতর।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানার ওসি মাহবুবে খোদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ওপর রান্নাঘর ছিল। হঠাৎ গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন আহত হয়। এতে বিল্ডিংয়ের তিনটি রুম ভেঙে পড়ে। সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস, নাকি তিতাস গ্যাসের সরবরাহ লাইন বা চুলার লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত