হোটেলে নিজ খরচেই থাকতে হবে ইউরোপফেরত যাত্রীদের

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২১, ০১:৩২ এএম

করোনা তান্ডব ফের ভয়ানক হওয়ায় ইউরোপ থেকে আসা সব যাত্রীকেই ১৪  দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এ জন্য ২৫টি হোটেল চূড়ান্ত করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ এড়াতে সরকারের দেওয়া ১৮ দফা নির্দেশনার অংশ হিসেবেই দেশের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন এই নির্দেশনা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্দেশনাটি কার্যকর হওয়ার কথা। নির্দেশনা কেউ না মানলে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। তবে ইউরোপ ছাড়া অন্য দেশের যাত্রীদের থাকতে হবে হোম কোয়ারেন্টাইনে। প্রতিটি এয়ারলাইনসকে এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী বহন করারও নির্দেশনা এসেছে। কেউ আইন অমান্য করলে ফ্লাইট বাতিল করাসহ জরিমানা করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে বেবিচক সূত্র জানিয়েছে।  

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রাথমিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখব। তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো দেশের যাত্রীদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম করা যায় কি না তাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইউরোপ থেকে যেসব যাত্রীর জন্য ভালোমানের বেশ কয়েকটি হোটেল ঠিক করা হয়েছে ওইসব হোটেলে নিজ খরচেই থাকতে হবে। অন্য দেশের নাগরিকরা ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বিশ্বে বিভিন্ন দেশে নিজ খরচেই হোটেলে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের সদস্য চৌধুরী এম জিয়াউল কবির স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে- বাংলাদেশে আগত ও বাংলাদেশ ত্যাগ করা প্রত্যেক যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখতে হবে। এছাড়া যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলো থেকে যারা আসবে তাদের জন্য ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তারা বেবিচক নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার অথবা নির্ধারিত হোটেলে থাকবেন। অন্যান্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদেরও ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর ও ফ্লাইটে সব যাত্রীকে মাস্ক পরতে হবে। এছাড়া যেসব বিমানের প্রতি সারিতে সিট তিনটি করে, সেই ফ্লাইটের মাঝের সিটের যাত্রীকে মাস্কের পাশাপাশি বাধ্যতামূলক ফেসশিল্ড পরতে হবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে ওয়াইড বডি বা বড় সাইজের এয়ারক্রাফটকে আগে সর্বোচ্চ ৩০০ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এই সংখ্যা কমিয়ে ২৬০ করা হয়েছে। তাছাড়া যেকোনো ফ্লাইটের ইকোনমি ক্লাসের শেষ সারি ও বিজনেস ক্লাসের একটি সিট খালি রেখে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। অনেকেই মনে করছেন, এবারের সংক্রমণের সঙ্গে করোনার নতুন ধরনের যোগসূত্র রয়েছে। যার কারণে শনাক্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গেল জানুয়ারিতেই দেশে সংক্রমণের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমেছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনের ব্যবধানে তা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। আগে যাদের মৃত্যু হতো তাদের বেশিরভাগই ছিল বয়োবৃদ্ধ এবং নানা রোগে আক্রান্ত। কিন্তু এখন সংক্রমণের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে আক্রান্ত ও মৃতদের বেশিরভাগই যুবক।

যেসব হোটেলে রাখা হবে যাত্রীদের : যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ থেকে যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাপনার জন্য ২৫টি হোটেলকে সরকার অনুমোদন দিয়েছে। ওইসব হোটেলে নিজ খরচে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে যাত্রীদের। হোটেলগুলো হচ্ছে বারিধারার এসকট দ্য রেসিডেন্ট লিমিটেড ঢাকা, গুলশান-২ এর দি ওয়েস্টিন ঢাকা, বারিধারার এসকট প্যালেস লিমিটেড, বনানীর প্লাটিনাম হোটেলস বাই শেলটেক, উত্তরার হানসা, গুলশান-২ এর লংবিচ সুইটস ঢাকা, হোটেল লেক ক্যাসেল, উত্তরার বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস ম্যাপেল লিফ, গুলশান-২ এর হোটেল বেঙ্গল ব্লু বেরি, বারিধারার ডেইজ হোটেল ঢাকা, উত্তরার মনসুন ইন, বনানীর হোটেল আফতাব আওয়ার্স রেসিডেন্টস, বনানীর গোল্ডেন টিউলিপ, গুলশান-২ এর হোটেল ট্রপিক্যাল ডেইজি, বনানীর হোটেল সুইট ড্রিম, কারওয়ান বাজারের হোটেল লা ভিঞ্চি, বনানীর আমাজন লিলি লেকভিউ রেসিডেন্স, বনানীর অমনি রেসিডেন্স, নিকুঞ্জের বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস মায়া, হোটেল গ্রেস ২১, উত্তরার হোটেল এফোর্ড ইন, হোয়াইট প্যালেস হোটেল, মেরিনো রয়েল হোটেল, মেমেন্টো হোটেল, রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন। এ সংক্রান্ত বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে- বাংলাদেশে আগত সব যাত্রীকে আরটি পিসিআর পদ্ধতিতে যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকতে হবে। যা বিমানবন্দরে প্রদর্শন করতে হবে।

বেবিচকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইউরোপ থেকে আসা যাত্রীরা দেশে আসার পর হোটেলে নেওয়া হবে। সেখানে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যারা আইন মানবে না তাদের প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করতে দ্বিধাবোধ করা হবে না। বিমানবন্দর বা হোটেল কর্র্তৃপক্ষ কোনো গাফিলতি করলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এয়ারলাইনসগুলো যাত্রী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দেশ পালন না করলে ফ্লাইট বাতিল করার পাশাপাশি মোটা অংকের জরিমানা আদায় করা হবে। ইতিমধ্যে এয়ারলাইনস কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত