স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে মার্কেটে ক্রেতার ভিড় লেগেই আছে

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ০২:০২ এএম

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সারা দেশে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের মধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছিল বিপণিবিতান। চার দিন বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার থেকে ফের খুললেও প্রথম দিনের তুলনায় শনিবার ক্রেতাসমাগম বেশি ছিল। ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতাও।

গতকাল শনিবার ঘড়ির কাঁটা তখন পাঁচটা ছুঁইছুঁই, নগরীর নিউ মার্কেটের প্রায় সব দোকানের বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ততার অন্ত নেই। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে পুলিশি তৎপরতা। পুলিশের অনুরোধে ‘নিয়ম’ মেনেই দোকান বন্ধ করতে দেখা গেছে সেখানে। নিউ মার্কেটের বিক্রেতারা জানান, শুরুর দিকে ক্রেতার উপস্থিতি তেমন না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গেই জনসমুদ্র তৈরি হয় নিউ মার্কেট। গাউছিয়া, নিউ মার্কেট চাঁদনী চকসহ অত্র এলাকার ফুটপাতে বসা দোকানেও ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি ছিল।

করোনার সংক্রমণের মধ্যেই পরিবার নিয়ে মার্কেটে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আসলে জরুরি প্রয়োজনেই আসা। এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম তাই ঘুরে যাচ্ছি। সংক্রমণের ভয় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো কিছুই তো থেমে নেই। জীবনের প্রয়োজনেই জনসমাগমপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলতে পারি না।’

জরুরি প্রয়োজনে নিউ মার্কেটে এসেছিল পিয়াস। তবে লাভ হয়নি। ৫টার পরে আসায় তার নির্দিষ্ট কাজ হয়নি।

মহানগর দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উল্লাহ গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকালের তুলনার বিক্রি বেড়েছে। ক্রেতার উপস্থিতি ছিল বেশি। নির্দেশনা মানা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের দেওয়া সব নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে।’ নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৫টার মধ্যেই সব মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় সরকার ৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহন ও শপিং মল বন্ধ থাকার কথা বলা হয়। তবে রাজধানীর নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আন্দোলনসহ সারা দেশে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শর্ত সাপেক্ষে দোকান, শপিং মল, মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

তবে মার্কেট খুলে দেওয়া হলেও বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দোকানে ক্রেতার আগমন আগের মতো হবে না। তবে অনেকের ধারণা, সরকার যদি স্বাভাবিক নিয়মে স্বাস্থ্যবিধি মানার দিকে নজর দেয়, তবে মার্কেট আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

ফার্মগেট এলাকায় সেজান পয়েন্টে বেলা ১১টায় তেমন কোনো ক্রেতা ছিল না। দোকানের কর্মচারীদের জীবাণুনাশক দিয়ে দোকানের সামনে পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, গত বছরও করোনার সিজনে লস হয়। এবার ঈদে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলাম, তা মনে হয় হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত