কৃষির সঙ্গে শিল্পেও বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২১ এএম

দেশকে এগিয়ে নিতে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ওপর সরকার গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কৃষির পাশাপাশি শিল্পের দিকেও সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগে ধারণকৃত এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। এটি গতকাল সোমবার রাতে টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা শিল্পের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছি। কারণ উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার ব্যবস্থা এবং দেশে-বিদেশে পণ্য যেন আমরা রপ্তানি করতে পারি, তার ব্যবস্থা করে কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।’

এ সময় কৃষকলীগের সব সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। এছাড়া দেশের মানুষে খাদ্যের চাহিদা পূরণের কৃষকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সব কৃষক-কিষাণীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি। সরকারপ্রধান বলেন, ‘কৃষকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাদ্য উৎপাদন করেন। সেই খাদ্য খেয়েই আমরা বেঁচে থাকি। কাজেই তাদের প্রতি আমাদের সব সময় সমর্থন রয়েছে এবং তাদের সহযোগিতা করা এটা আমরা, বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের কর্তব্য মনে করে।’

কৃষকদের সমস্যা সমাধানের জন্য জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ প্রথম সরকার গঠনের পর থেকেই কাজ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা ক্ষমতা দখল করল, তারা এদেশের কৃষকদের ভাগ্য নিয়েও ছিনিমিনি খেলতে শুরু করল। সার চাইতে গিয়ে ১৮ জন কৃষককে গুলি খেয়ে জীবনও দিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে, তখন থেকে দেশের কৃষকদের আর কোনো কষ্ট থাকেনি। কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের কল্যাণে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সারের দাম যা বিএনপি সরকারের আমলে ৯০ টাকা ছিল, তা আজ আমরা ১২ টাকায় নামিয়ে এনেছি। গবেষণার মাধ্যমে উন্নত বীজ আমরা উৎপাদন করছি এবং সেই বীজ আমরা সরবরাহ করছি।’

 শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষি খাতে আমরা ৭০ শতাংশের ওপর ভর্তুকি দিচ্ছি; কৃষি-যান্ত্রিকীকরণ করে যাচ্ছি, যাতে আমাদের কৃষকরা আরও অধিক পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করতে পারে। কৃষকের জন্য উন্নতমানের বীজ সরবরাহের পাশপাশি প্রতিটি কৃষি-উপকরণ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; সেচ কাজে বিদ্যুতে ভর্তুকি দিচ্ছি। কৃষকের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতেও ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেচ কাজে সোলার-প্যানেলের ব্যবহার শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, “কৃষকরা যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় তার জন্য সরকার ‘যথাযথ দাম’ নির্দিষ্ট করছে এবং কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের ঘরে যাতে খাদ্য সংরক্ষিত থাকে, প্রত্যেক কৃষকের ঘরে খাদ্য যেন থাকে। কারণ যারা উৎপাদন করবে তারা খাবার পাবে না বা তাদের ছেলেমেয়েরা খাদ্যে কষ্ট পাবে এটা হতে পারে না। আমরা সে ব্যবস্থাটাও সঙ্গে সঙ্গে হাতে নিয়েছি।’

সাম্প্রতিক ‘হিট শকে’ ফসল নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তায় ‘থোক বরাদ্দ’ রাখা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের উৎপাদন যাতে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হতে পারে- তার জন্য যথাযথ মাটি পরীক্ষা করা থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি গবেষণার ওপর। ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি, তখন থেকেই কৃষি গবেষণায় আমরা গুরুত্ব দিই। আজ গবেষণার ফলে আরও নতুন নতুন ধরনের ফসল উৎপাদন, তরি-তরকারি, ফলমূল ও দানাদার খাদ্যশস্য থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য যেন উৎপাদন হতে পারে, তার জন্য ব্যাপকহারে গবেষণা হচ্ছে এবং উন্নতমানের বীজ আমরা সরবরাহ করছি। যার ফলে আজ কৃষক খুব অল্প কষ্টে অধিক পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করতে পারছে; ধান উৎপাদন করতে পারছে, গম করছে, ভুট্টা করছে এবং সব ধরনের ফসল উৎপাদন করার সুযোগ পাচ্ছে এবং তা বাজারজাত করার ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।’

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে কৃষকের ধান কাটার সমস্যা দূর করতে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার কথা আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নিজেকে আপনারা সুরক্ষিত রাখুন, অপরকে সুরক্ষিত করুন। এই করোনাভাইরাসের হাত থেকে যেন দেশ ও জাতি মুক্তি পায়, তার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সবাই দোয়া করেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত