দেশে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় সব সূচকেই বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। গত ১২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। গতকাল বুধবার করোনাবিষয়ক নিয়মিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৭ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছে, যাদের মধ্যে ৩১ জনই পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের। এক দিনে মৃত্যুর এ সংখ্যা গত সাত দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১২ মে এর চেয়ে বেশি রোগী মারা গিয়েছিল। অন্যদিকে শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১ হাজার ৬০৮ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৭ মে’র পর সর্বোচ্চ।
এদিন ১২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষাও হয়েছে গত ১৩ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, এদিন প্রায় সাড়ে ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষা হয়। এর আগে গত ৬ মে এর চেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। গতকাল নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা গত পাঁচ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ গত ১৪ মে ঈদের দিন এর চেয়ে বেশি হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
ঈদ ছুটিতে পরীক্ষা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় তখন রোগী শনাক্তও অনেক কমে গিয়েছিল। ওই সময় শনাক্ত হারও কমে ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে। কিন্তু গত দুদিন ধরে পরীক্ষা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে শনাক্ত হারও বাড়ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। গত মার্চের শুরু থেকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। টানা প্রায় ৪০ দিন ধরে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে শনাক্ত হার সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশের ওপরে ওঠে। তবে গত প্রায় এক মাস ধরে সংক্রমণ আবার কমতির দিকে রয়েছে। শনাক্ত হার কমতে কমতে গত ১৫ মে প্রথমবার ৭ শতাংশের নিচে নামে। এরপর টানা তিন দিন শনাক্ত হার ৭-এর নিচে থাকার পর গত দুদিন ধরে আবার তা ৮ শতাংশে কাছাকাছি উঠেছে।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৩৭তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৪৭৮টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৭টি জিন-এক্সপার্ট, নতুন ১১টিসহ ৩১২টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও নতুন একটিসহ ১২৯টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২০ হাজার ৪৯৮ জনের। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ২০ হাজার ৫২৮ জনের, যার মধ্যে ৭৩৭টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪৪৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৭ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ২৪৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯২৩ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৬ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৪ ও নারী ১৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮৫৮ পুরুষ ও ৩ হাজার ৩৯০ নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৩২ ও নারী ২৭ দশমিক ৬৮ ভাগ। এদিন ঢাকা বিভাগে ১৬ ও চট্টগ্রামে ১৫ জন মারা গেছে। বাকিদের মধ্যে খুলনা ও সিলেটে ২ জন করে এবং রংপুর ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ২৪, ৫১-৬০ বছরের ৭, ৪১-৫০ বছরের ২, ৩১-৪০ বছরের ৩ এবং ২১-৩০ বছরের ছিল ১ জন। এদিন ২৬ জন সরকারি হাসপাতালে, ১০ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ১ জন বাসায় মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫১১ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ৩৫৬ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৭ হাজার ৬১৬ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪৪ হাজার ২৬৩ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১১ হাজার ৯৯১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৮৯৩টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ১ হাজার ১৭১টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩২২টিতে।
