কবি সৌহার্য্য ওসমান ১৯৮৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছায় জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: জলঘুমে অথরা (২০১৯) ও পাতার রঙ জলপাই (২০২১)। কাব্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সম্পাদনা করেন শিল্প সাহিত্য বিষয়ক ওয়েব— কিংবদন্তি।
বৃষ্টিশব্দের জন্য প্রার্থনা
একদিন বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিল আমার গ্রামের মানুষ
পুকুরের কাছাকাছি কারও কারও ধান গাছ বেঁচে আছে। মরে গেছে কেউ, যার ঘর কখনো নবান্নের আনন্দে হয়নি রঙিন
পৃথিবীর আলো নিভে গেলে কিছু পতঞ্জলি,অভুক্ত ফড়িং টেঙ্গরে থাকে চিরদিন। ধানের পাতার মতোন লেগে আছে, মন যেখানে বৃষ্টির কোলে ধুয়ে যায়
ঝমঝম শব্দের কাছে হারিয়েছিলাম শৈশবের চৌয়ারি ঘর। আহা কত বৃষ্টি! শেফালির ফুলতোলা কামিজে বৃষ্টিশব্দের ভেতর চোখের এক ফোঁটা জল কখন যে মিশে গেছে, সেটা আমার গ্রামের মানুষ কোনোদিন ভুলেনি
কোভিড নিষ্ঠুরতা
চড়চড়ে রোদের এই এপ্রিলের দুপুর ক্লান্তি আর অবসাদ রমাদান ঘিরে
হয়তো বহুদিন নয়, তবুও বিষাদ শরীরে জমা হয়
রৌদ্রকরোজ্জ্বল এসব দুপুরে শরীর পুড়ে গেলেও দিব্যি চলছে মানুষ
রমাদান, চলছে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ
তাই উৎকণ্ঠা, উদ্গীরণ জনমনে—
এপ্রিলে কেন এত নির্মম নিষ্ঠুরতা, এত মৃত্যু!
এত এত কবর, চিতা!
হতে পারে অতিমারি, মহামারি, কিংবা দুর্ভিক্ষের চিরচেনা ঝরা পাতার পত্র পাঠ। হতে পারে কৃষকের ধানে মহাজনের অতিলোভী চোখ আটকে গেছে কোভ্যাক্স টীকার মতো বৈশ্বিক
পৃথিবীতে কেউ কি দেখেছে এমন কোনোদিন, কোনো মহামারি? কোভিড বা কৃষকের ধানে, কিংবা এই এপ্রিল?
ক্ষত
ক্ষত চিহ্নের কাছে পরাজিত জীবন, জীবিকার আঁতুড় নিবাস। আর সেই তো দেখছি কেমন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়েছে সংসারে বহুদিন টিনের চালার নিচে দায় নিয়ে মৃত্যুর
জন্মের হিসাব হলে ধাত্রীর হাত ভালো কিংবা খারাপ কিংবা লাল মরিচের কাছে শেষ যাত্রার ক্ষত, লেগে আছে এই শরীরে পরম্পরায়, শরীরে এখনও ক্ষয়
নৈঃশব্দ্যে বহু রাতের আকাশ ভারি করে যে আগুন জ্বলছে, সেখানে গরম মশলাপাতি, তেজপাতার মতো কেবলই কড়কড়ে একটি পাতা মৃত্যুর পাহারাদার
এলজিন
রাতের মেইল শুধু চিঠি গিলে খায়
আমার শক্ত মুঠোর হিজলের সকাল কখনো নিতে আসেনি
এলজিন ব্যথায় পেটের অসুখ কেবলি তার মতো।
রক্তের কাছে গেলে আমিও বিলাপ করি ,বলি, তুমি ক্ষমা করো, বেঁচে গেলে মাজারে শিন্নি দিও, ছেলে হলে আমাকে দিও পিতার আসন
অথচ দুই ভাগ হৃদয়ের এক ভাগ পঁচে গেলে
পিচঢালা রাস্তায় কিছু নেই
যেটুকু আছে মাথার উপরে আকাশ
তাও মেঘে ঢাকা, টিস্যু কাগজে মোড়া এলজিন
বউভাত
ক্ষোভে-বিক্ষোভে তার কাছে কখনো আসেনি সকাল বেলার পাখি,ঝিরিঝিরি হাওয়া, কলপাড়ে বাসন মাজার রিনিঝিনি আওয়াজ। বৈশাখে সেই বড় আমগাছটা দখলের তুমুল যুদ্ধের কলহও না
অথচ উঠোনের বাঁ-দিকটায় সোনালুর হলুদ ফুলের মান ছেলেটার খুব মন ধরেছে দেখে, আমিও হাতে নিই মহাকাল, দ্বিতীয় আয়ুষ্কাল আর আমার মৃত্যু পরোয়ানা
ডানদিকের উঠোনে কৃষ্ণচূড়ার কাছে কেবলই আলাপ রেখে গেলে বুলবুলি, শুনেছি দোয়েলের কাছেও রেখে যেতো একদিন, আমার পরিচিত ভবিষ্যৎ দুঃস্বপ্নের মতো
ছেলেটার খুব শখ— সোনালুর ঘরে কৃষ্ণচূড়া বউ হলে, আমাদের উঠোনে বৈশাখে বউভাত মেলা হবে
