ব্যবসায়ী ছেলের আশ্রয়হীন বাবা পড়ে ছিলেন সড়কে

আপডেট : ২৫ মে ২০২১, ০২:১০ এএম

মৌলভীবাজার শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা অরুণ দেব (৭৫)। তিন ছেলেমেয়ের এই বাবা থাকতেন ১০ বছর আগে মারা যাওয়া ছোট ছেলে অর্জুন দেবের সংসারেই। বড় ছেলে বিপ্লব দেব ব্যবসা করেন সুনামগঞ্জে। সেখানেই তিনি পরিবার নিয়ে স্থায়ী হয়েছেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে শহরেই এক জুয়েলার্সের ম্যানেজারের সঙ্গে। কিন্তু তারা কেউই খোঁজ নেন না বাবার। অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকার খবর শুনেও এগিয়ে আসেননি তারা। বৃদ্ধ শ্বশুরকে টানতে টানতে ক্লান্ত ছোট ছেলের বউ অপারগতা প্রকাশ করেছেন  দায়িত্ব নিতে। এই অবস্থায় স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ এসে হাসপাতালে ভর্তি করে অরুণ দেবকে।

গত রবিবার রাতে শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে একটি হোটেলের সামনে অসুস্থ হয়ে পড়ে গেলে হোটেল মালিক রিকশায় করে ঠিকানা দিয়ে বাসায় পাঠান তাকে। কিন্তু বাসায় নিতে আপত্তি  জানান ছোট ছেলের বউ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন লালন-পালন করেছেন, এখন আর তিনি কোনোভাবেই বৃদ্ধের দায়িত্ব নিতে পারবেন না। ১০ বছর আগে অর্জুন মারা যাওয়ার পরেও বড় ছেলে এবং মেয়ে তার কোনো ভরণ-পোষণ দিতেন না। তিনিই বিভিন্নভাবে কষ্ট করে যা উপার্জন করতেন তা দিয়ে শ্বশুরকে এতদিন লালন-পালন করেছেন। অভাবের কারণে তিনিও বিরক্ত।

এদিকে রবিবার রাতে বাসার সামনে মাটিতে শুয়ে থাকতে দেখে আশপাশের উৎসাহী লোকজন জড়ো হন। অনেক অনুরোধ করেন কিন্তু ঘরে তুলে নেননি মৃত ছোট ছেলের স্ত্রী। পরে এলাকাবাসী তার বড় ছেলে সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ী বিপ্লব দেবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তিনিও বাবার দায়িত্ব নিতে পারবেন না বলে জানান। পরে মেয়ে এবং মেয়ের জামাইও দায়িত্ব নিতে অপারগতা জানান।

পরে স্থানীয় অজয় রায় যোগাযোগ করেন ৯৯৯ নম্বরে। মৌলভীবাজার সদর থানার ওসি-তদন্ত গোলাম মূর্তজা আসেন। তিনি নিজেও পরিবারের সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান, পুলিশের উদ্যোগে হাসপাতালে নেওয়া হবে তবে পরিবারের কেউ একজন অন্তত সঙ্গে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসা করতে সুবিধা হবে। কিন্তু তারা কেউ রাজি হননি। পরে সন্ধ্যার পর মৌলভীবাজার সদর থানার পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

অজয় রায় বলেন, এমন ঘটনায় আমরা হতবাক। আমাদের সমাজে এমনটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। এমন ঘটনায় সাক্ষী হয়ে মানসিক ট্রমায় আছি।

বাবাকে আশ্রয় না দেওয়ার কারণ হিসেবে বিপ্লব দেব বলেন, তার আর্থিক অবস্থা ভালো না, তাই তিনি নিতে পারবেন না। অন্যদিকে মেয়ে না আসার পেছনেও মেয়ের স্বামীর আপত্তি ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মৌলভীবাজার মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) গোলাম মূর্তজা বলেন, নানাভাবে বৃদ্ধের ছেলেমেয়েদের অনুরোধ করি কিন্তু কেউই তার দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। পরে আমরা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং আমার সাধ্যমতো আর্থিক সাহায্য করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত