আর্থিক সুবিধা নিয়ে এনআইডি জালিয়াতি

সেই জয়নালসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ০১:৩০ এএম

অনৈতিকভাবে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে রোহিঙ্গা নারীকে ভুয়া এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) তৈরি করা, জাতীয়তা সনদ ও জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে সহায়তার অভিযোগে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের আলোচিত সেই অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন, হাটহাজারীর ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবসারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা হয়েছে।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুন) মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক নূর আহমেদ, হাটহাজারী নির্বাচন কার্যালয়ের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সাইফুদ্দিন, ইসি প্রধান কার্যালয়ের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট সত্য সুন্দর দে, হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জন্মনিবন্ধন লিপিবদ্ধকারী বেলাল উদ্দিন, রোহিঙ্গা লাকী আক্তার ও তার স্বামী নজির আহমদ এবং দালাল ও লাকীর কথিত পিতা আবদুস সালাম ও আজিজুর রহমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়, নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করায় অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দ-বিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় জালিয়াতির ক্ষেত্রে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পেলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই রোহিঙ্গা নারী রমজান বিবি ওরফে লাকী হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয়তা সনদ নেন। পরে লাকী এই সনদ ও ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। একই ইউনিয়ন থেকে লাকীর স্বামী রোহিঙ্গা নাগরিক নজির আহমদ ও তাদের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ও জান্নাতুল বাকিয়ার জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের আবেদন করে সনদ নেন। পরে জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়ে এই দুই মেয়েও একইভাবে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। এসব সনদ পেতে সংশ্লিষ্ট আসামি হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জন্মনিবন্ধন লিপিবদ্ধকারী বেলাল উদ্দিন সহযোগিতা করেন। এই সনদেই হাটহাজারীর ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবসারের অনুমোদন রয়েছে। 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, লাকী রোহিঙ্গা নারী হওয়া সত্ত্বেও হাটহাজারী নির্বাচন কার্যালয় থেকে এনআইডি সার্ভারে তার তথ্য আপলোড করা হয়েছিল। এই ভুয়া এনআইডি তৈরিতে সেই আলোচিত অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সত্য সুন্দর দে, সাইফুদ্দিন ও নূর আহম্মদ জড়িত ছিলেন। তারা সবাই যোগসাজশে এসব কাজ করেন। এমনকি মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট গ্রহণ করে লাকীর স্বামী রোহিঙ্গা নজির আহমদ সৌদি আরব চলে যান। রোহিঙ্গা নারী লাকীকে পাসপোর্ট পেতে কথিত বাবা সাজেন হাটহাজারীর আবদুস সালাম। তিনি কথিত বাবা সেজে লাকীকে এনআইডি, জাতীয়তা সনদ পাইয়ে দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত